বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা

আস্থা রাখাতেই সমাধান দেখছেন ম্যাকেঞ্জি

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা মনে করেন, নেইল ম্যাকেঞ্জি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাদের সীমিত ওভারের ব্যাটিংয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে। অন্য দিকে বাংলাদেশের এই সীমিত ওভারের ব্যাটিং কোচ মনে করেন, তার ব্যাটসম্যানরা সবাই বড় মঞ্চে বড় স্কোর করার জন্য তৈরিই আছেন। এখন কেবল নিজেদের ওপর ওই গুরুত্বপূর্ণ সময়টাতে আস্থা রাখাই আসল ব্যাপার বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ম্যাকেঞ্জির দল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দারুণভাবে নিজেদের মেলে ধরেছিলেন। এরপর নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অবশ্য সাকিব আল হাসান ছাড়া বেশিরভাগ খেলোয়াড় সেটা করতে পারেননি। তবে ম্যাকেঞ্জি মনে করেন, খেলোয়াড়দের নিজেদের ওপর আস্থা রাখাটাই এখন বড় ব্যাপার, ‘বিশ্বাস তো আছেই। আমি মনে করি, খেলার পরিকল্পনা ও নিজেদের ওপর আস্থা রাখাটা তাদের (ব্যাটসম্যানদের) ওপরই নির্ভর করে। ব্যাটিংয়ের দিক থেকে দেখতে গেলে এটা আসলে যে কাজটা করছে, তার নিজের ওপর আস্থা রাখাটাই মূল ব্যাপার। আমি মনে করি এই বিশ্বাসটা থাকলে আপনি তাদেরকে তাদের খেলাটাই খেলতে দেবেন। আমি এই বিশ্বাসটা তাদের মধ্যেও দেখতে চাই, যারা কম অভিজ্ঞ, কিন্তু ম্যাচজয়ী হয়ে উঠতে পারে।’

ম্যাকেঞ্জি মনে করেন, বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের স্কিলের দিক থেকে কোনো ঘাটতি নেই। তাদেরকে এখন ম্যাচে বিভিন্ন বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে তৈরি থাকতে হবে, ‘তাদের ব্যাকআপ পরিকল্পনা রাখতে হবে। তাদের প্ল্যান-এ কাজ না করলে পরের ব্যাপারটা নিয়ে পরিষ্কার চিন্তা করতে হবে। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের হাতের গতি অসাধারণ। তারা স্কিলের দিক থেকে ধারাবাহিকভাবে বল পেটাতে পারে। এখন শুধু তাদের প্রক্রিয়াটায় আস্থা রাখতে হবে।’

ম্যাকেঞ্জি মনে করেন, গত বছর খানেক ধরে বাংলাদেশের কোচ ও নির্বাচকরা খেলোয়াড়দের বাছাই করার ব্যাপারে খুব ধারাবাহিক ছিলেন। তিনি লিটন দাসের উদাহরণ দিলেন। তাকে অনেক সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি এশিয়া কাপের ফাইনালে ১২১ রানের একটা ইনিংস খেলতে পেরেছেন। এরপর মোসাদ্দেক হোসেনের উদাহরণ এলো। এই তরুণ তারকার ওপরও ভরসা রাখার ফল আয়ারল্যান্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ফাইনালে ২৭ বলে ৫২ রানের ইনিংস।

এদের উদাহরণ সামনে রেখে ম্যাকেঞ্জি বলছিলেন, ‘আমি মনে করি, নির্বাচনী প্রক্রিয়া অনেক ধারাবাহিক এখানে। আমাদেরকে আমাদের তরুণ খেলোয়াড়দের যত্ন নিতে হবে। তারা যখন সুযোগ পাবে, তারা যেনো জানে যে, তারা এরপর ভালো সুযোগ পাবে। একটা খেলা সুযোগ পেলো, একটা বাইরে গেলো; এরকম হবে না। আমি মনে করি, এখন পুরো ব্যবস্থাটাই ভালো বলে এটা হচ্ছে। লিটন যাওয়া আসার মধ্যে ছিলো, ওর ফর্মও উত্থান-পতনের মধ্যে ছিলো এশিয়া কাপে। আমরা ওকে সমর্থন করে দেখি। শেষ পর্যন্ত সে ফাইনালে অবিশ্বাস্য একটা সেঞ্চুরি করেছে।’

ম্যাকেঞ্জি মনে করেন, নির্বাচক, কোচ, অধিনায়কের এই আস্থাই একজন করে খেলোয়াড়কে গড়ে তুলতে পারে, ‘নির্বাচকরা এই খেলোয়াড়দের বুঝিয়েছেন যে, আমরা তোমাকে সমর্থন করছি। আমরা এই জন্য কাউকে দলে নিচ্ছি না যে, সাংবাদিকরা তাকে ভালো বলছে। কোচ ও অধিনায়ক মনে করছে, এই ছেলেরা ভালো, সে জন্যই তাদের নেওয়া হচ্ছে।’