পাট চাষ নির্বিঘ্ন হলেও এক দিকে দাবদাহ, অন্যদিকে খালবিলে পানি না থাকায় পাট কাটা ও জাগ দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।
সাঁথিয়া (পাবনা): পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের ভালো আবাদ হলেও তীব্র দাবদাহ ও পানির অভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক। দাবদাহে জমিতেই মরে যাচ্ছে পাট। মাটির ওপর অংশের পাটের আঁশ শুকিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি না হলে পাট মরে ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে দাবদাহের সঙ্গে তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে উপজেলা জুড়ে। কোথাও পাট পচানোর পানি নেই। খালবিল, নদীনালা সবই যেন পানি মুক্ত শুকনো চক। এতে পাট কাটার ভরা মৌসুমে পানির অভাবে কৃষকরা পাট কাটা বন্ধ করে দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলায় ৭ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।
সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার বলেন, গত বছর দাম ভালো পেয়ে কৃষক পাট চাষে ঝুঁকছেন। কিন্তু পানি না থাকায় চাষিরা পাট জাগ দিতে পারছেন না। পাট পচানোর জন্য পানি চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্লুইসগেইট দিয়ে নদীতে পানি সরবরাহ চাওয়া হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্যানাল ও নদীতে পানি সরবরাহ করা হবে।
গাংনী (মেহেরপুর): চলতি বছর গাংনীতে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দেড় হাজার হেক্টর বেশি। চাষ বেশি হলেও পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। অনেক এলাকায় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত মেশিন ও মোটরের সাহায্যে পানি দিয়ে পাট জাগ দেওয়া হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের।
পাটচাষি নাসিরউদ্দীন জানান, পাট চাষ লাভজনক হওয়ায় এ বছর অধিক জমিতে পাট চাষ হয়েছে। কিন্তু এখন পাট জাগ দেওয়ার পানি পাচ্ছি না।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন জানান, এ বছর পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। পাটের বর্ধন বা উচ্চতাও আশানুরূপ হয়েছে। তবে বৃষ্টির অভাবে জমিতে পর্যাপ্ত রস না থাকায় পাট শুকিয়ে যাচ্ছে।
নন্দীগ্রাম (বগুড়া): গত কয়েক দিন ধরে অনাবৃষ্টি, প্রচণ্ড গরম ও দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন। এছাড়া মাঠে পানি না থাকায় আমন মৌসুমের চাষাবাদ বন্ধ রয়েছে। তাই এখন ফাঁকা মাঠে গরু-ছাগলকে ঘাস খাওয়াচ্ছেন কৃষকরা।
উপজেলার দলগাছা গ্রামের কৃষক আশরাফুল আলম বলেন, এই ভরা বর্ষায় আমাদের মাঠে পানি নাই। এ সময় আমন ধান লাগানোর জন্য জমি প্রস্তুত করতে হয়। জমিতে পানি না থাকায় আমরা হালচাষ করতে পারছি না।