শ্রেণিকক্ষ-সংকট, গাছের নিচে পাঠদান

গাজীপুরের কাপাসিয়ার ‘চাঁদপুর এমদাদুল উলুম আলিম মাদ্রাসায়’ শ্রেণিকক্ষ-সংকটে গাছের নিচে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম চরম ভাবে ব্যহত হচ্ছে বলে জানা গেছে। উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ওই মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠার বিগত ৪২ বছরে শিক্ষার্থীরা তাদের মেধার বিকাশ ঘটিয়ে গেলেও অবকাঠামোগত তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি।

সম্প্রতি সরজোমিনে গিয়ে জানা যায়, ১৯৮০ সালে ধর্মীয় শিক্ষা প্রসারে এলাকার কিছু শিক্ষানুরাগী মানুষ তাদের নিজ উদ্যোগে মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত করা হয়। মাদরাসায় বর্তমানে ৩০৮ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বিগত দিনে শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফলও অব্যাহত রেখেছে। শিক্ষার্থীরা বরাবরের ন্যায় ভালো ফলাফল অব্যাহত রাখলেও প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোর কোন উন্নয়ন হয়নি। শ্রেণিকক্ষ গুলোর টিনের ছাউনি অতি পুরাতন, তাই নষ্ট হয়ে গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই রুমে পানি পড়ে। এমনকি দিনের শুরুতে বৃষ্টি হলে বা আকাশে কালো মেঘ দেখা দিলে ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ভয়ে মাদরাসায় আসে না। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে আরবি বিভাগের সহকারী শিক্ষক সফিকুল ইসলাম মাদরাসার আঙিনায় গাছের নিচে বেঞ্চ পেতে ৪র্থ শ্রেণির কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করান।

এ ব্যাপারে মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা লোকমান হেকিম সরকার বলেন, শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণ টিন শেডে এবং গাছতলায় খোলা মাঠে পাঠদান করতে খুবই অসিুবিধা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবি প্রতিষ্ঠানে যেন একটি ভবন উপহার দেয়। যাতে আমরা শিক্ষার সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারি।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান সরকার বলেন, পূর্বে অনেক চেষ্টায় একটি ৪ তলা ভবন অনুমোদন হওয়ার পর আর পেলাম না। সত্যিকারে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যহত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কাপাসিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বর্তমানে অবকাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রাখতে স্থানীয় ভাবে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য গর্ভনিংবডিকে বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ভবনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে।