পদ্মা সেতুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের আইনের আওতায় আনতে বাধা কোথায়

"পদ্মা সেতু প্রকল্প" বাস্তবায়নে যে অযৌক্তিক, ভিত্তিহীন,  অলীক ও দেশি- বিদেশি দুরভিসন্ধি কারীদের পরিকল্পিত দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তা শুরু থেকেই খন্ডন  করে আসছেন।  প্রধানমন্ত্রীর এ সত্য ভাষণ দেশী বা  আন্তর্জাতিক  আদালত মিথ্যা প্রমাণ করতে পারেনি , এমনকি কস্মিনকালেও পারবেনা।   বিশ্বব্যাংক যেখানে অর্থই ছাড় করে নাই, কাজ যেখানে  শুরুই হয় নাই, সেখানে কী করে দুর্নীতি হয়!!   

বিশ্বব্যাংকের এসব  বানোয়াট ও বায়বীয় অভিযোগের  অনেক খেসারত দিতে হয়েছে দেশ মাতৃকাকে, দেশের উন্নয়ন অনেকটা  নিরুৎসাহিত করছে । সামাজিকভাবে দেশের অসংখ্য স্বনামধন্য ব্যক্তিদের হেনস্থা হতে হয়েছে, বহির্বিশ্বে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। সত্য কখনো মিথ্যা দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না। সত্য একদিন বেরিয়ে আসবেই। জাতি একথা জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। মাতৃভূমির উন্নয়ন-অগ্রগতিতে কেউ যদি বাধার সৃষ্টি করে, স্বদেশের    বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এর চেয়ে ঘৃণ্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ আর কীই-বা হতে পারে? 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিবন্ধক  ব্যক্তি হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস -এর নাম জনসম্মুখে প্রকাশ করলে -‘ইউনূস সেন্টারের’ মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের জবাব প্রদান করা হয়েছে। এটি "ঠাকুর  ঘরে কে রে,  আমি কলা খাই না" এমন  প্রবাদের স্মরণ করিয়ে দেয় । 

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের প্রান্তিক পর্যায়ে সুদের ব্যবসায় সফলতা পাওয়ায়, এটি বিশ্বব্যাপী বেনিয়া-বাণিজ্য সম্প্রসারণে  উপযোগী হওয়ায়  এবং এর প্রয়োগ কৌশল বিশ্বের দরবারে পদ্ধতিগতভাবে উপস্থাপন করলে, তার পুরনো বোতলে নতুন মদ ভরার চতুরতা ও জালিয়াতি বিশ্বের দরবারে কেউ কখনো তুলে ধরেনি। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক বা তৎকালীন সরকার গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময় এই ধারণাটি লুফে নেয় এই ভেবে যে, এটি ভারত উপমহাদেশে ঐতিহাসিকভাবে  ক্ষুদ্র এবং মাঝারি ব্যবসায় বা কৃষকদের দাদনের মাধ্যমে নানারকম সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসার পরীক্ষিত পদ্ধতি। ফলে ক্ষমতাধর "ক্লিনটন ফাউন্ডেশনকে" ব্যবহার করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালীদের ব্যবহার করে এবং নানারকম আর্থিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তার মাইক্রোক্রেডিট ব্যবসাকে সম্প্রসারিত করেন এমন একটি ধারণা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে  আছে বলে অনেকে মনে করেন।

গ্রামীণ ব্যাংক একটি বিশেষ আইনে প্রতিষ্ঠিত হলেও  তার আইনি কাঠামো অন্যান্য ব্যাংকের মতোই। তবে ড. ইউনূস তার পরিণত বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কেন গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি থাকতে বদ্ধপরিকর ছিলেন বা এ নিয়ে তিনি উচ্চ আদালতে মামলা করেছিলেন বা ক্ষুদ্র ঋণদাতাদের  প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন আদায়ে এত বেশি মরিয়া হয়েছিলেন কেন, তা জাতির কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তাছাড়া, পদ্মা সেতুর মতো এমন একটি সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে তিনি বাধা হয়ে দাঁড়াবেন কেন বা তার কী স্বার্থ ছিল দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে, তাও ভালোভাবে খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে অভিযোগ করেছেন ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের পদ হারিয়ে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে "পদ্মা সেতু" নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের বিনিয়োগের বিরোধিতা করেছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে একাট্টা  হয়ে।  এটি একটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বড় মাপের হীন  ষড়যন্ত্র, যার সাথে জড়িয়ে আছে  রাজনীতি।   
  
কোনো কোনো সংসদ সদস্য ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ক্ষমতাসীনদের সাথে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে সরকারকে "পদ্মা সেতু ইস্যু"  বিতর্ক এড়ানোর জন্য হুঁশিয়ার করে দেন। তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে বেগবান করে দেশ স্বাধীন করতে যেমন সমর্থ হয়েছিলেন,  ঠিক তেমনি তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নিজস্ব অর্থায়নে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও অত্যাধুনিক টেকনোলজির সহযোগিতায় বিশ্বের একটি অনন্য স্থাপনা "পদ্মা সেতু" নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এর ফলে, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে নির্মিত হয়েছে আমাদের এই পদ্মা সেতু। যা দেশবাসীর এক পরম পাওয়া।  তাই এ   একক কৃতিত্বের দাবিদার প্রধানমন্ত্রী। তাই তো তিনি  বরণীয় ও স্মরণীয়।   

পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে- এ কথা যেমন সত্য, অপরদিকে ষড়যন্ত্রের মাত্রাও তেমনি বেড়েছে। ষড়যন্ত্রকারীরা বসে নেই, সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য তাদের কালো হাতের ছোবল মাঝেমধ্যেই  লক্ষ করা যায়। পর্দার অন্তরালের চিত্র কত ভয়ংকর হতে পারে  তা আমাদের কাছে দৃশ্যমান নয়। 
সুশীল সমাজের কেউ কেউ ইন্টেলেকচুয়াল গেম খেলছে দেশের সাধারণ মানুষের সাথে। বিদেশিদের কাছে ধরনা দিচ্ছে। দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, ষড়যন্ত্র থেমে আছে ভাবার কোনো উপায় নেই।

 এ দেশের তথাকথিত সংগঠন সুশীল সমাজের  অনেকেই ড. ইউনূস এর সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন ও এখনও আছেন বলে আমি মনে করি। পদ্মা সেতু নির্মাণের পর এদের সুর পাল্টে গেছে। বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সাথে সুর মিলিয়ে বর্তমান সরকারকে কী ধরনের বিরূপ সমালোচনা করেছিলেন তা তারা এখন  মনে করতে পারছেন না। এক মুখে তাদের দুই ধরনের কথা।  সরকারের এত আকাশছোঁয়া উন্নয়ন তারা চোখে দেখছেন না। তাদের চোখে ছানি পড়ে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে গেছে। ড. ইউনূসের সাথে এদেরও খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের 
দাবি।

ড. ইউনূস তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ অস্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছেন অত্যন্ত চতুরতার সাথে। বিশেষ করে তার অর্থের উৎস, বিভিন্ন রকম সেমিনারে অংশগ্রহণের সম্মানী, তবে এটি পদ্ধতিগত ত্রুটির  কারণে  মানি লন্ডারিং -এর মতো অপরাধ হয়েছে কি না তা সংশ্লিষ্ট  সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করে দেখার প্রয়োজন আছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করে। ৎ

শান্তিতে নোবেল প্রাপ্তির পরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সামাজিক মর্যাদা অনেকখানি বৃদ্ধি পায়। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস নিজ দেশে কেন অশান্তির দূত হয়ে উঠেছিলেন তা সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য নয়।  

বস্তুত, তিনি আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয় ছিলেন সুদের ব্যবসাকে বহুগুণ বাড়িয়ে কীভাবে গরিব বা সাধারণ মানুষকে শোষণ করা যায় -এটির জন্য। তিনি ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরেন এবং এসব বিষয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কোনো মাথাব্যথা ছিল না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তিনি তার ব্যক্তিগত ইচ্ছা চরিতার্থ করার জন্য বা ষড়যন্ত্রমূলক রাজনীতিকে গতিশীল করার জন্য  পদ্মা সেতুর অর্থায়নে বিশ্বব্যাংককে প্রভাবিত করার অভিযোগে অভিযুক্ত হন।

ইতোমধ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ পদ্মা সেতু ষড়যন্ত্রকারীদের সম্পৃক্ততা খুঁজতে একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশনের কাজ হবে: পদ্মা সেতুর বাস্তবায়নের নেপথ্যে কারা ষড়যন্ত্র করেছিলেন তাদের খুঁজে বের করা, এবং দেশের প্রচলিত আইনে দেশবিরোধী বা রাষ্ট্রদ্রোহিদের মতো অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা। 

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক দোসররা কে কোথায়, কীভাবে ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিয়েছে, তাদেরও খুঁজে বের করার সময় এসেছে :  যাতে করে মিরজাফর, জগৎশেঠ, রাজবল্ল­ভ, ঘসেটি বেগমরা বাংলার স্বাধীনতার উদীয়মান সূর্যকে বারবার স্তিমিত করার ষড়যন্ত্রের আশ্রয়  নিতে না পারে। সকল দেশ প্রেমিক দেশবাসীর অবিমিশ্র  প্রত্যাশা:    বঙ্গবন্ধু কন্যা তাঁর দৃঢ়তা দিয়ে যেমন "পদ্মা বহুমুখী সেতু" নির্মাণ করে সমগ্র বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন, ঠিক তেমনিভাবে  ষড়যন্ত্রকারীদের মূল উৎপাটনেও তিনি সচেষ্ট হবেন, কেননা বাংলার মাটিতে যে অফুরন্ত সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে, তা যেন বারবার বর্গী - বেনিয়ারা দারিদ্র্য বিমোচনের নামে লুটপাট করে খেয়ে ফেলতে না পারে। 

 অনেকে হয়তো ভাবতে পারেন    পদ্মা সেতু যেহেতু  হয়েই গেছে তাই এ নিয়ে  আর বাড়তি বিতর্ক ও ঘাটাঘাটির এমন কি প্রয়োজন?    মাতৃভূমির সাথে ষড়যন্ত্রকারী, রাষ্ট্রদ্রোহী, বেঈমানদের কোনোক্রমেই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার কোনো অবকাশ নেই।   আইনের আওতায় না আনলে   হয়তোো তারা  আরো গভীর   ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তারে  দুঃসাহসী হয়ে উঠবে।  ফলশ্রুতিতে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হবে, শান্তি বিঘ্নিত হবে এবং অন্যান্যরাও নতুন ষড়যন্ত্রে  প্রলুব্ধ হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা দৃঢ়চেতা-দুঃসাহসিক  প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর  ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে অতিশীগ্রই  আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের বিচারের কাঠ গড়ায় দাঁড় করাবেন -এমন প্রত্যাশা দক্ষিণাঞ্চলের মেহনতী মানুষ সহ বাংলাদেশের দেশ প্রেমিক উন্নয়ন  প্রত্যাশীদের একান্ত দাবি। 

লেখক: ফিকামলি তত্ত্বের জনক, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, 
প্রেসিডেন্ট- ওয়ার্ল্ড ফুটবলার্স ফোরাম (WFFB), 
সভাপতি শহিদ সেলিম-দেলোয়ার স্মৃতি পরিষদ।