দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলের ডেপুটি ডাইরেক্টর (ট্রাফিক) মামুন ন তরফদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বেচ্ছচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো। ইতিমধ্যে তার অপসারণের দাবিতে পালন করেছে কর্মবিরতি, করেছেন সভা সমাবেশ সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা।
সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর মামুন তরফদার (ট্রাফিক) যোগদান করেন বেনাপোল বন্দরে। তারপর থেকে তাকে বন্দরের অপারেশনালের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্বে থেকে তিনি বন্দরের ক্রেন, ফরকলিফট'র ঠিকাদারের সাথে অংশীদারিত্ব ব্যবসা করছেন। তিনি পণ্যবাহী ট্রেন থেকেও চাদাঁবাজি করছেন বলে অভিযোগ বন্দর ব্যবহারকারীদের। ভারতে রফতানি পন্যবোঝাই ট্রাক সিরিয়াল আগে করে দেওয়ার নামে প্রতিটি ট্রাক থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায় করছেন বলেও অভিযোগ তাদের। প্রতিটি শেডে অবৈধভাবে বহিরাগত লোক নিয়োগ করে মোটা অংকের অর্থ আদায় করেন।
সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা জানান, বেনাপোল বন্দরে টানা সাড়ে ৪ বছর থাকলেও অদৃশ্য কারণে তাকে বদলি করা হচ্ছে না। বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী হাসান আলীর সুপারিশে মামুন তরফদারকে বদলী করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলোর। তার দুর্নীতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেকেই মামুন নের হুমকির শিকার হয়েছেন। এখনও তাকে অপসারণের দাবিতে অনড় রয়েছেন বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো।
ভারত -বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের ডাইরেক্টর মতিয়ার রহমান জানান, বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠন গুলো যখন বন্দরের ডেপুটি ডাইরেক্টর মামুন তরফদারের অপসরণ চেয়ে আন্দোলন করছেন তখন কেন তাকে অপসারণ করছেন না কর্তৃপক্ষ। আমরা তাকে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি করছি।
বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন গাজী জানান, মামুন তরফদার বিএনপির সময়ে নিয়োগ প্রাপ্ত। বিএনপির তৎকালীন নৌ পরিবহন মন্ত্রী আকবর হোসেনের নিজস্ব লোক। বন্দরের ডেপুটি ডাইরেক্টর মামুন তরফদারকে অপসারণ না করলে বন্দরে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তিনি বন্দরের সকল দুর্নীতির হোতা।
সিএন্ডএফ এজেন্ট ও ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী রিপন হোসেন জানান, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চীফ ইঞ্জিনিয়ার হাসান আলীর প্রতিনিধি বন্দরের ডাইরেক্টর মামুন তরফদার। মামুন তরফদারের নেতৃত্বে বন্দরে বড় ধরনের অপকর্ম হচ্ছে। বন্দরের ক্রেন ফরকলিফট অচল রয়েছে দীর্ঘদিন। মাত্র ২টি ক্রেন সচল আছে, আমদানিকারকরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে। ক্রেন ফরক লিফট ঠিকাদারের সাথে তার পার্টনার শিপ ব্যবসা রয়েছে। আমরা তার অপসারণ চাই।
বেনাপোল বন্দরের ডেপুটি ডাইরেক্টর মামুন তরফদার জানান, আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন। ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের কোন ভিওি নেই। তারা ব্যক্তি কেন্দ্রিক আন্দোলন করছেন। বন্দরের সিস্টেম পরিবর্তন করা হলে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।
বেনাপোল বন্দরের ডেপুটি ডাইরেক্টর (প্রশাসন) আব্দুল জলিল জানান, আমাদের হাতে এ ধরনের কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।