চট্টগ্রামে বিদ্যুতের লোডশেডিং শিডিউল রক্ষা করা যাচ্ছে না। এক ঘণ্টার লোডশেডিংয়ের কথা বলা হলেও একাধিক বার লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পিডিবি জানায়, বিদ্যুৎ বরাদ্দের ওপর শিডিউল করতে হচ্ছে। ফলে বরাদ্দ ঠিক না থাকায় লোডশেডিংয়ের শিডিউলও ঠিক রাখা যাচ্ছে না। ফলে বিদ্যুৎ বরাদ্দ ঠিক না থাকায় বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বার লোডশেডিং করতে হচ্ছে। দৈনিক বরাদ্দ কত পাওয়া যাবে তা আগে ঠিক করতে হবে। শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে বিপাকে পড়েছে পিডিবির কর্মকর্তারা।
সরকারিভাবে ঘোষণা অনুসারে গতকাল মঙ্গলবার থেকে এক ঘণ্টা লোডশেডিং করার কথা। কিন্তু গতকাল সকাল থেকে নগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার লোডশেডিং করা হচ্ছে। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। বলা হয়েছিল লোডশেডিং কখন কোন এলাকায় হবে তা আগে নির্ধারণ করা দেওয়া হবে। কিন্তু চাহিদার চেয়ে বরাদ্দ কম পাওয়ায় শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। গ্রাহকরা ফোন করে পিডিবি কর্মকর্তাদের অতিষ্ঠ করে তুলছে। পিডিবি কর্মকর্তারাও সন্তোষজনক জবাব দিতে পারছে না।
জানতে চাইলে পিডিবি চট্টগ্রাম জোনের প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, বরাদ্দ ঠিক না থাকায় লোডশেডিংয়ের শিডিউল ঠিক রাখা যাচ্ছে না। দৈনিক কত মেগাওয়াট বরাদ্দ পাব তা বলা যাচ্ছে না। তাই লোডশেডিং কখন কোথায় হবে তার হিসাব মিলাতে পারছি না।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গভীর রাতেও লোডশেডিং দীর্ঘক্ষণ লোডশেডিং করা হচ্ছে। চান্দগাঁও শাহওয়ালিউল্লাহ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন বলেন, একাধিক বার লোডশেডিং হচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত তিন বার লোডশেডিং হয়েছে।’ নগরীর অন্যান্য এলাকায়ও একইভাবে লোডশেডিং করা হচ্ছে।’ পিডিবি পাহাড়তলী বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সানাউল্লাহ বলেন, রোডশেডিংয়ের শিডিউল বিদ্যুৎ বরাদ্দের ওপর নির্ভর করছে। আপাতত চালিয়ে যাচ্ছি। মাঝেমধ্যে ট্রান্সফরমারের সমস্যা হলে কিছুক্ষণ বন্ধ রাখতে হয়।’ খুলশী বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহনেওয়াজ বলেন, এই মুহূর্তে লোডশেডিংয়ের শিডিউল ঠিক রাখা কঠিন। আরো কয়েকদিন সময় লাগবে। শিডিউল রক্ষা করা প্রাপ্ত বরাদ্দের ওপর নির্ভর করছে। লাইনের সমস্যার কারণে মাঝেমধ্যে বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’
দক্ষিণ চট্টগ্রামে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন এলাকা। সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, আমরা দৈনিক যে পরিবার বরাদ্দ পাচ্ছি তার সমভাবে বণ্টনের চেষ্টা করছি। আজ (মঙ্গলবার) দিনের বেলায় বেশি লোডশেডিং করতে হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে শিডিউল ঠিক রাখা কঠিন। আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।’
চট্টগ্রামে সরকারিভাবে পরিচালিত গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের চারটি ইউনিটের মধ্যে একটি মাত্র ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। বাকি তিনটি ইউনিটে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। রাউজানে গ্যাসনির্ভর দুটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ৪২০ মেগাওয়াট। তার মধ্যে একটি ইউনিট থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। অপর ইউনিটটি প্লেইড ভেঙে যাওয়ায় মেরামত কাজ চলছে। এটি মেরামত কাজ শেষ হতে আরো এক মাস সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এদিকে শিকলবাহা এলাকায় গ্যাসনির্ভর ২২৫ ও ১৫০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, ২২৫ মেগাওয়াট ফার্নেস অয়েলে বিদু্যত্ উৎপাদন করা যায়। কিন্তু মেরামত কাজের জন্য দুটি ইউনিট উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। মেরামত কাজ সম্পন্ন হতে আরো এক মাস লাগতে পারে।’ কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি ইউনিট চালু রয়েছে। এখানে ১৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। দুটি ইউনিট যান্ত্রিকত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে।