সিংগাইরে সেই মিল মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

সিংগাইর থানা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এবং এন আর আরকে অটো রাইস মিলের মালিক কায়সার হামিদ ও জি এম ফারুক হোসেন শাহিনের বিরুদ্ধে নওগাঁর একটি আদালতে মামলা করেছেন এক ধানব্যবসায়ী।

উপজেলার জামির্ত্তা ডাউটিয়া বাজারে তার মিলের শব্দ ও বায়ুদূষণে শ্বাসকষ্টে ভুগছে এলাকাবাসী। জনবসতিপূর্ণ এ গ্রামে রয়েছে বাজার, স্কুল, মসজিদ, কমিউনিটি ক্লিনিক। বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান কিনে টাকা না দেওয়া এবং পাওনা টাকা চাইতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে কায়সার হামিদের বিরুদ্ধে।

নওগাঁর মান্দা থানার এলেঙ্গা গ্রামের মেসার্স মৃধা ট্রেডার্সের মালিক মো. রেজাউল করিম মৃধার সম্প্রতি নওগাঁ আদালতে কায়সার হামিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলা থেকে জানা গেছে, ধান কেনাবেচা এবং বিশ্বস্ত হয়ে উঠার সুবাদে এন আর কে অটোরাইস মিলে ধান ক্রয় বাবদ তিনি প্রায় ৩ কোটি টাকা পান। টাকা না দেওয়ায় ধান দেওয়া বন্ধ করলে মিল মালিককে কৌশলে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্যাডে লিখিত চুক্তি মতে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা পরিশোধ বাবদ চারটি চেক দিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে তা নগদায়নের জন্য অনুরোধ করেন। সম্পাদিত চুক্তিপত্র এবং উল্লেখিত চেকের কারণে বিশ্বাস স্থাপন হলে তিনি যথারীতি ধান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, এটি তার প্রতারণা। ফলে চেকগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে দাখিল করলে টাকা না থাকায় তারা তা ফিরিয়ে দেয়। অবশেষে টাকা চাইতে গেলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

রেজাউল মৃধা বলেন, এ মামলায় গত ১২ জুলাই নওগাঁর আদালতে কায়সারের হাজির হওয়ার নির্দেশ ছিল। নির্দেশ অমান্য করায় ঐ দিনই তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। তবে গ্রেফতারি পরোয়ানা গতকাল পর্যন্ত পৌঁছেনি বলে সিংগাইর থানার ওসি সফিকুল ইসলাম মোল্যা জানিয়েছেন। এদিকে হুমকি দেওয়া এবং টাকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেজাউল হক। তিনি বলেন, ঐ ব্যবসায়ী পাওনা টাকার বিষয়ে প্রতিকার পাওয়ার আশায় তার দপ্তরে বার বার এসেছেন। টাকা পরিশোধ করে মীমাংসার অনুরোধ তিনিও করেছেন। কিন্তু ক্ষমতার দাপটে কায়সার তা কর্ণপাত করেননি।