টানা তৃতীয় মেয়াদে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মসনদে নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বাধীন পরিচালকরা। ২০১৩ সালে নির্বাচনি কার্যক্রমের আগে গঠনতন্ত্রে কয়েকটি পরিবর্তন এনেছিল বিসিবি। অ্যাডহক কমিটি থেকে এসব সংশোধনীর প্রস্তাবটা করেছিলেন পাপন ও তার সমমনা সংগঠকরা। যার মধ্যে অন্যতম ছিল বিসিবি নির্বাচনে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সুপার লিগের ছয় ক্লাবের দুই জন করে কাউন্সিলর অনুমোদন।
বিসিবির গত তিনটি নির্বাচনে এই সুবিধা ভোগ করেছে সুপার লিগের ছয় ক্লাব। গতকাল রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে বিসিবির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এই ধারা সংশোধন করা হয়। সুপার লিগের ছয় ক্লাবের কাউন্সিলর সংখ্যা একজন করে কমিয়ে আনা হয়েছে। বাকি সব ক্লাবের মতো তাদেরও কাউন্সিলর এখন থেকে একজনই থাকবে।
বিসিবির আগামী নির্বাচন থেকে ঢাকার সব ক্লাবের ভোটাধিকার সমান হচ্ছে। প্রিমিয়ার লিগ, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগের ক্লাবগুলোর সমান ভোট থাকছে।
একই সঙ্গে অতীতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগের সব ক্লাবের ভোটাধিকার ছিল না। গতকাল আনা সংশোধনীর মাধ্যমে সবাই ভোটাধিকার পাচ্ছে। প্রিমিয়ার লিগের ১২, প্রথম বিভাগের ২০, দ্বিতীয় বিভাগের ২৪, তৃতীয় বিভাগের ২০টি ক্লাবের একজন করে কাউন্সিলর থাকবে। এজিএমে কাউন্সিলরদের সর্বসম্মতিক্রমে এই প্রস্তাব পাশ হয়। এজিএম শেষে সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই বলেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
তিনি বলেছেন, ‘প্রিমিয়ার লিগে কারও কারও কাউন্সিলরশিপ ছিল না। আবার কারও একাধিক ছিল। প্রিমিয়ার লিগের সুপার লিগের ক্লাবগুলোর যেমন দুটি করে ছিল। আজ (গতকাল) এজিএমে পাশ করা হয়েছে, আমরা প্রত্যেকটা ক্লাবকে সমান সংখ্যক কাউন্সিলরশিপ দেবো।’
তবে ৯ বছর আগে সুপার লিগের ছয় ক্লাবকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার নিয়মটা প্রবর্তন এবং এখন বাদ দেওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন বিসিবি সভাপতি। যদিও নির্বাচনি উদ্দেশ্যকে আড়াল করে ক্লাব ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ানোর কথাই উল্লেখ করেছেন পাপন।
তিনি বলেছেন, ‘আমাদের মূল চাওয়া ছিল আরও বেশি ক্লাব যেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য লড়াই করে, দল বানায়। সেজন্য ইনসেনটিভ হিসেবে এটা (দুটি করে ভোট) দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন শুধু আবাহনী মোহামেডান নয়, অনেক ক্লাব এই চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইট দেওয়ার জন্য লড়াই করে। দল গঠন করে। যে কেউ যে কোনো বার চ্যাম্পিয়ন হতে পারে।’
লক্ষ্যপূরণ হয়ে যাওয়ায় নাকি সেই নিয়ম তুলে নেওয়া হয়েছে। একটি করে কাউন্সিলরশিপে সব ক্লাবই খুশি এবং সবাই এটিকে স্বাগত জানিয়েছে বলে দাবি পাপনের। তিনি বলেন, ‘আমাদের যে উদ্দেশ্য ছিল সেটা সার্ভ হয়েছে। তাতে ক্লাবগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে, সঙ্গে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকও কিন্তু বেড়েছে। এজন্য সব ক্লাবকে কাউন্সিলরশিপ দেওয়া হয়েছে।’