দুই পাশ জুড়ে অসংখ্য ধস পথচারী ও যানচলাচলে ঝুঁকি

সড়কে অসংখ্য ভাঙন

নির্মাণাধীন কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়ক

 

মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়নে কাজ চলছে। অথচ বৃষ্টির পানির তোড়ে সড়কের দুপাশের পাড় ধসে পথচারী ও যান চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, আহলাদিপুর-রাজবাড়ী পাংশা-কুমারখালী-কুষ্টিয়া (চৌড়হাস) পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ, মজবুতিকরণ, হার্ডসোল্ডার নির্মাণ, দুইটি কালভার্ট ও সার্ফেসিংসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাজে ১৯০ কোটি টাকা ব্যয় ধার্যে মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে ১৮ ফুট চওড়া সড়কটির দুপাশে আরো ছয় ফুট প্রশস্তকরণসহ সিলকোট, দুইটি কালভার্ট নির্মাণ ও এক হাজার মিটার প্যালাসাইডিং কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ সম্পন্নের পথে এগুলেও কয়েকদিনের সামান্য বৃষ্টির পানিতে দুপাশের পাড় ধসে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি এবং সদ্য সংস্কারকৃত সড়কের অংশবিশেষ ভেঙে পড়েছে। কুষ্টিয়ার মোল্লাতেঘরিয়া থেকে কুমারখালীর কাজীপুর পর্যন্ত মহসড়কের দুপাশে কমপক্ষে দেড় শতাধিক ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এ মহাসড়কে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সড়কের পাশ পাড় ঘেঁষে মাটির পরিবর্তে দায়সারাভাবে বালু ভরাট করার ফলে সামান্য বৃষ্টির পানিতে বালু ধসে পড়ে অসংখ্য গর্ত সৃষ্টিসহ মহাসড়কের অংশবিশেষ ভেঙে গেছে। 

কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়ার বাসিন্দা আব্দুর রহিম জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ হাইওয়ে সংস্কার ও উন্নয়নে ত্রুটিপূর্ণ কাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উন্নয়নূলক এ কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হলে জনগণের দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিসহ সরকারের আর্থিক ক্ষতি বাড়বে। প্রকল্পের কাজটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি। সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পের কাজ যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম লিঃ ও জহুরুল লিমিটেড (জেভি)। মহাসড়কের উন্নয়ন প্রকল্পটি সম্পন্নের মেয়াদ ২০১৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বর।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের জহুরুল লিমিটেড (জেভি) এর স্বত্বাধিকারীকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে গতকাল রবিবার সরেজমিন ঘুরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে সড়কের পাড়ের ভাঙন ঠেকাতে মাটি ভরাট করতে দেখা গেছে।

কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম সত্যতা স্বীকার করে জানান, বৃষ্টির কারণে সড়কের বর্ধিত অংশের দুপাশের পাড় ভাঙনের আশঙ্কায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে পূর্বেই চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে মোতাবেক তারা বৃষ্টির আগে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় মাটি ধসে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। তবে সড়কের ভাঙন সংস্কারসহ প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে বলে সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান।