বিভিন্ন স্হানে প্রচণ্ড গরমে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিন হাসপাতালগুলোতে স্বজনরা শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চিকিত্সার জন্য আসছেন। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতার খবর:
ঝিনাইদহ থেকে ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, জেলায় শিশুদের ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। প্রতিদিন এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশুরা সদর হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এছাড়াও উপজেলা স্বাস্হ্যকেন্দ্রগুলোতে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ঝিনাইদহ ২৫০ বেড সদর হাসপাতালে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ শিশু আউটডোরে আসছে। তাদের মধ্যে যাদের রোগ জটিল হয়েছে তাদের ভর্তি করা হচ্ছে। বাকিদের কিছু ওষুধ ও ব্যবস্হাপত্র দেওয়া হচ্ছে। এক শিশুর মা বলেন, তার বাচ্চা প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত হলে সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। এখনো সুস্হ হয়নি। তাদের গ্রামে আরো শিশু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সপ্তাহ খানেক ধরে শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তিনি বলেন, সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে বেড আছে ৬৫টি। বুধবার ভর্তি ছিল ৮৮ জন শিশু। এর মধ্যে ১০ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ও ২০ জন নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত। বাকি ৫৮ জন জ্বরে আক্রান্ত। ঋতু পরিবর্তন কালে শিশুরা ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। এ জ্বর একটি সংক্রমণ জ্বর। বাড়িতে একজন আক্রান্ত হলে অন্যরাও আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি জ্বরে আক্রান্তদের থেকে শিশুদের দূরে রাখাতে মায়েদের পরামর্শ দেন।
ঝিনাইদহ শিশু হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ডা. আলি আহসান ফরিদ (জামিল) জানান, শিশু হাসপাতালে প্রতিদিন অন্তত ১৫০ শিশু নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আউটডোরে আসছে। তাদের মধ্যে যাদের রোগ জটিল হয়েছে তাদের ভর্তি করা হচ্ছে। সিভিল সার্জন ডা. শুভ্রা রানী দেবনাথ বলেন, ভ্যাপসা গরমে শিশুদের রোগবালাই বেড়েছে। জেলার হাসপাতালগুলোতে ওষুধের কোনো অভাব নেই। জ্বর বেশি বা পাতলা পায়খানা বেশি হলে হাসপাতালে এনে ভর্তি করতে মায়েদের পরামর্শ দেন।
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, ফুলবাড়ীতে গত কয়েক দিনের খরতাপে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এদিকে তীব্র দাবদাহ আর গরমের কারণে মানুষের শরীরে পানি শূন্যতাসহ সর্দি-কাশি, জ্বরসহ ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ব্যাপক হারে। আক্রান্ত রোগীর মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধই থাকছে বেশি। উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বুধবার উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সে বহির্বিভাগে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত প্রায় সাড়ে ৩০০ রোগী চিকিত্সা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৬০ ভাগ রোগীই ছিলেন সর্দি-কাশি-জ্বরসহ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। একইভাবে বেসরকারি ক্লিনিকসহ নিজ নিজ বাড়িতে এসব রোগে আক্রন্ত ব্যাপকসংখ্যক রোগী চিকিত্সা নিচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্হ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান বলেন, স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে প্রতিদিন শিশু ও বৃদ্ধসহ তিন শতাধিক মানুষকে চিকিত্সাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে বর্তমানে ডায়রিয়া রোগী কিছুটা কম হলেও সর্দি-কাশি ও জ্বরের রোগী বেশি। হঠাৎ গরম বেড়ে যাওয়ায় শিশুসহ সববয়সি মানুষ ভাইরাসজনিত কারণে সর্দি-জ্বর ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছেন। এসব কারণে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক চিকিত্সা নিলেই রোগী সুস্হ হয়ে উঠবেন।