ওয়ানডের সাফল্যে বড় হচ্ছে বিশ্বকাপ স্বপ্ন

আইসিসি ওডিআই সুপার লিগের পয়েন্ট টেবিলে দুই নম্বর অবস্হানে আছে বাংলাদেশ দল। ১৮ ম্যাচে সমানসংখ্যক ১২টি জয় থাকলেও রানরেটে এগিয়ে থাকায় ইংল্যান্ড শীর্ষে আছে। কার্যত ভারতের মাটিতে ২০২৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়ে গেছে।

গত এক যুগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাকি দুই সংস্করণের চেয়ে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সাফল্যের হার অনেক বেশি। যখনই অকূল পাথারে পড়েছে দল, তখনই ত্রাতা হয়ে ধরা দিয়েছে একদিবসী ক্রিকেট। সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরই যার জলজ্যান্ত উদাহরণ। ক্যারিবিয়ানে টেস্ট ও টি-২০তে বিধ্বস্ত হয়েছিল বাংলাদেশ দল। প্রিয় ফরম্যাট ওয়ানডেতে মাঠে নামতেই ধুঁকতে থাকা দলটা ঘুরে দাঁড়ায়। ৩-০তে স্বাগতিকদের সিরিজ হারিয়েছে তামিম ইকবালের দল।

কন্ডিশন বিবেচনায় এবং বড় রানের ম্যাচে ঘাটতি রয়েছে কিছুটা। তারপর ওয়ানডেতে সব সময়ই আত্মবিশ্বাসী টাইগাররা। সব মিলিয়ে ওয়ানডের ধারাবাহিক সাফল্য আগামী বছরের বিশ্বকাপকে ঘিরে তৈরি হওয়া স্বপ্নের পরিধি বাড়াচ্ছে। ২০২১ সালের মার্চে নিউজিল্যান্ড সফরের পর দেশে, দেশের বাইরে ১৫টি ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ, যার মধ্যে হেরেছে মাত্র তিনটি, তামিম বাহিনী জিতেছে ১৫টি।

এ সবই বিশ্বকাপে বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখাচ্ছে, আশার পালে হাওয়া জোগাচ্ছে। ক্যারিবিয়ান থেকে দেশে ফিরে গতকাল মেহেদী হাসান মিরাজও জানালেন, বিশ্বকাপে ভালো কিছু সম্ভব। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘২০২৩ বিশ্বকাপ তো বেশি দূরে নেই। হয়তো এক বছর দুই-তিন মাস আছে। কিন্তু আমরা যেভাবে যাচ্ছি, আমি মনে করি এই প্রক্রিয়ায় আগালে আমাদের সামনে বিশ্বকাপটা আরো বেশি ভালো হবে। কারণ অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ও থাকবেন। তামিম ভাই, সাকিব ভাই, মুশি ভাই, রিয়াদ ভাই আছেন, তারা তো অনেক অভিজ্ঞ। তারপর আমি মুস্তাফিজ, লিটনরাও খেলেছি। মোটামুটি ভালো একটা অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশ্বকাপে আমরা ভালো খেলতে পারব।’

সাকিব আল হাসানের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের পরও ইংল্যান্ডে ২০১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যেতে পারেনি বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের পরই সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেছিলেন, ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপে সেমিতে খেলবে টাইগাররা।

তেমন বড় কিছুর স্বপ্ন নিয়েই বিশ্বকাপে যাবেন ক্রিকেটাররা। গতকাল মিরাজ বলেছেন, ‘আমরা অবশ্যই বিশ্বকাপে ভালো কিছু করলে আমাদের নিজেদের জন্য যেরকম ভালো হবে, দেশের জন্যও ভালো হবে। অবশ্যই বড় একটা অর্জন করার চেষ্টা করব। কিন্তু এটা তো আপনি বলতে পারেন না যে, বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ানই হব। আমরা চেষ্টা করতে পারি, হয়তো ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি। কীভাবে বিশ্বকাপটা জেতা যায়, সেই পথটা আমরা বের করতে পারি। এটা তো ভাগ্যের ওপর। আমরা তো স্বপ্ন দেখি এশিয়া কাপ জিতব, বিশ্বকাপ জিতব।’

নিয়মিত জয়ই ওয়ানডেতে ক্রিকেটারদের মনোবল বাড়িয়েছে। মিরাজ বলেন, ‘ওয়ানডেতে আমরা স্বাচ্ছন্দ্য। সব সময়ই ভালো ক্রিকেট খেলি। চার-পাঁচ বছর ধরে ভালো রেজাল্টও করে আসছি। মানুষ যে জিনিসটায় সফলতা পায়, অবশ্যই ওই জিনিসটায় সবাই বেশি আত্মবিশ্বাসী থাকে।’