মির্জাপুরে গোড়াই শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাসের সংকট থাকায় মিল-কারখানায় লোকসান হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নতুন করে যোগ হয়েছে লোডশেডিং। গ্যাস-সংকট ও লোডশেডিংয়ে দিশেহারা কারখানা কর্তৃপক্ষ। কবে নাগাদ সংকট সমাধান হবে তা কেউ বলতে পারছেন না। ফলে বিপুল অংকের ক্ষতির আশঙ্কায় হতাশায় ভুগছে মালিকরা। উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিদেশি বায়াররা অর্ডার বাতিল করছেন বলে জানিয়েছেন শিল্পমালিকগণ।
গতকাল শুক্রবার একাধিক শিল্পমালিক জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসংলগ্ন গোড়াই শিল্পাঞ্চলে ছোট-বড় মিলে শতাধিক মিল-কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—গার্মেন্টস, নিটিং অ্যান্ড ডাইং, সুতা উৎপাদন কারখানা, টায়ার অ্যান্ড টিউব, সিরামিকস, গ্লাস ফ্যাক্টরি ইত্যাদি। এসব কারখানায় উৎপাদন মূলত গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। এসব কারখানায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার শ্রমিক জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে এসব শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাপ না থাকায় উৎপাদন শূন্যের কোটায় নেমে মিল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকরা হারাচ্ছেন চাকরি। মালিক পক্ষও পড়েছেন লোকসানে।
এ ব্যাপারে নাহিদ কটন মিলস লি. জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. শহিদুল আলম বলেন, গোড়াই শিল্প এলাকায় ৫০ পিএসআইজি লাইনে গ্যাসের চাপ পাওয়া যাচ্ছে না। দাম বাড়ানো হলেও সেবার মান একটুকুও বাড়েনি। গ্যাসের সংকট থাকায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে প্রতি মাসে লোকসান গুনতে হচ্ছে। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে বারবার লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও তারা বিষয়টির দিকে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
গোড়াই-কালিয়াকৈর-কোনাবাড়ী ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফোরামের সভাপতি বিধান কুমার রায় বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের চাপ নেই। দিন-রাত মিলে দুই-তিন ঘণ্টাও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন করে যোগ হয়েছে লোডশেডিং। উৎপাদন না হওয়ায় তাদের কোটি কোটি টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে। বিদেশি বায়ারদের অর্ডার বাতিল হচ্ছে। সেই সঙ্গে কারখানায় কর্মরত প্রায় ৩০-৪০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর চাকরি চলে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে তিতাস গ্যাসের টাঙ্গাইল জোনাল অফিসের ম্যানেজার মো. খোরশেদ আলম বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কমপ্রেসারের মূল লাইনে গ্যাসের চাপ না থাকায় শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গ্যাসের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে গ্যাস সচল রাখার চেষ্টা চলছে। আশা করা হচ্ছে অল্প দিনের মধ্যে গ্যাস সংকট থাকবে না।