দুর্নীতি ও বৈষম্যে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রশাসনে ব্যক্তিগত স্বার্থলাভ অথবা ‘দুর্নীতি’ শব্দটি এখন অতিপরিচিত। বাংলাদেশে দুর্নীতির কারণ ব্যক্ত করতে গেলে তার কোনো অভাব হবে না। আর্থিক অবলম্বনের জন্য খুব ছোট পেশা থেকে শুরু করে যতই উচ্চপর্যায়ে যাওয়া হোক না কেন; কোনো পেশাই দুর্নীতি বহির্ভূত নয়। কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতি সংগঠিত হচ্ছে দারিদ্র্যতার প্রভাবে আবার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লোভের তাড়না মানুষকে  চরম দুর্নীতির দিকে ধাবিত করছে। কথায় বলে- ‘অভাবে স্বভাব নষ্ট’ বা ‘অতি লোভে তাতি নষ্ট’। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ তার উন্নতির বিভিন্ন ধারায় যেমন নতুনভাবে পরিচিত হচ্ছে, ঠিক তেমনি দুর্নীতির করাঘাতে বাংলাদেশ সরে যাচ্ছে তার মর্যাদার স্থান থেকে।

একদিকে, দেশের রাজনীতিতে দেশপ্রেমিক, যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্বের অভাব যেমন দেশকে চরম দুর্নীতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে; সঙ্গে রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার অভাব, অগণতান্ত্রিক পন্থায় রাজনৈতিক ক্ষমতা বদল এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তো আছেই অন্যদিকে; দেশের চাকরিক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের ঘুষ-এর সঙ্গে বেকার সমাজ খুব বেশিই পরিচিত। দেশে কর্মসংস্থান-এর অপ্রতুলতা এবং অন্যদিকে ব্যাপক বেকারত্ব—এ পরিস্থিতিতে যুব সমাজ যেকোনো চাকরির জন্য বিপুল পরিমাণে ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছে।

এইসবকিছুর সঙ্গে এখন নতুন করে যোগ হচ্ছে দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যস্তরের লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়া এবং ভেজাল দ্রব্য বিক্রয়। বাংলাদেশে এখন স্বপ্ন, প্রিন্স বাজার, আগোরার মতো নামিদামি সুপারশপগুলোতেই বিক্রি হচ্ছে পচা ফল, সবজি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য দ্রব্য। বিদেশি পণ্যের প্যাকেটের গায়ে আমদানিকারকের নাম-ঠিকানা ও এমআরপি স্টিকারের জায়গায় সঠিক দামের পরিবর্তে দেওয়া থাকছে নিজেদের বিক্রয়মূল্য।

সবকিছুর পর দুর্নীতি প্রতিরোধে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলো যখন দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যর্থ হয় কিংবা এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে তখন সমাজ ব্যাপকভাবে দুর্নীতিতে ছেয়ে যায়। সর্বোপরি, মর্যাদার মাপকাঠিতে উঁচুস্তরের মানুষ আরো মর্যাদা ও প্রতিপত্তি লাভে ধনসম্পদ সংগ্রহ করে অধিক ধনী হবার আশায় দুর্নীতির আশ্রয় নেয় এবং নিচুস্তরের মানুষ দারিদ্র্যতা ঘোচানোর জন্য দুর্নীতির আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। তৈরি হয় এক নিরবধি বৈষম্য।

n লেখক :শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।