ময়মনসিংহের গৌরীপুরের ডাকপ্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ছয় দিনে একটি হাঁসের খামারের ৩ হাজার ২০০ হাঁসের মৃত্যু হয়েছে। খামারের সব হাঁসের এমন মৃত্যুতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন খামারি শাহীন মিয়া।
জানা গেছে, উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের ধূপাজাঙ্গালিয়া গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে শাহীন মিয়া বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক ও একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প থেকে ৩৮ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে বাড়ির পাশে একটি হাঁসের খামার করে। কিন্তু খামারে আরো টাকার প্রয়োজন হওয়ায় তার বাবা আব্দুস সালাম নিজ নামে এনজিও ব্র্যাক, আশা ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে আরো ১ লাখ টাকা ঋণ তুলে ছেলের খামারে বিনিয়োগ করেন। চলতি বছরের মে মাসে নান্দাইল থেকে ১ লাখ ১২ হাজার টাকা দিয়ে সাড়ে ৩ হাজার হাঁসের বাচ্চা ক্রয় করেন শাহীন। লালন পালন, ওষুধ ও খাবার বাবদ ২ লাখ টাকা খরচ হয়। ঈদের পর সাড়ে ৩ হাজার হাঁস প্রায় ৫ লাখ টাকায় বিক্রির কথা ছিল। কিন্তু ঈদের দিন থেকেই খামারে মড়ক দেখা দেয়ায় সোমবার পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ২০০ হাঁস মারা যায়। মৃত হাঁসগুলো মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে।
শাহীন মিয়া বলেন, ‘খামারে মড়ক লাগার পর সুদে চল্লিশ হাজার টেকা ঋণ নিয়ে চিকিত্সা কইর্যা হাঁস বাঁচাইতে পারি নাই। পরে চট্টগ্রামের এক ডাক্তাররে সব খু্ইল্যা কইলে তিনি কইলেন প্লেগ রোগ হইছে। শনিবার গৌরীপুর পশু হসপিটালে গিয়া প্লেগের ভ্যাকসিন পাই নাই। চোখের সামনে হাঁসগুলো মইর্যা গেল। এহন আমি কি করমু বুইজা পাইতাছি না, চলমু কেমনে আর ঋণ শোধ করমু কেমনে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা পশু হাসপাতালের ডা. আব্দুল করিম বলেন, শনিবার দিন হাসপাতাল বন্ধ ছিল। হাসপাতালে প্লেগ রোগের ভ্যাকসিনের কিছুটা সংকট থাকায় চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আমাদের চিকিত্সকদের সাথে পরামর্শ না করা ও নিয়মনীতি না জেনে হাঁস পালন করায় অনেক সময় হাঁস রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যায়। ঐ খামারির হাঁস প্লেগ রোগেই মারা গেছে কি না পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে বলা যাচ্ছে না।