ব্যক্তি, নাম নয় বাংলাদেশ ক্রিকেট গুরুত্বপূর্ণ

তামিম ইকবাল অবসর নিয়ে ফেলেছেন। সাকিব আল হাসান ছুটি নিয়েছেন সিরিজ থেকে। বাকি ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম। দুজনের পারফরম্যান্সই টি-২০ তে সন্তোষজনক নয়। তাই ভায়রা ভাইদের ছেঁটে ফেলতে কুন্ঠাবোধ করেনি বিসিবি। তাদেরকে বাদ দেওয়ায় বাংলাদেশের টি-২০ দলটা নতুন রূপ পেয়েছে।

যা নিয়েই আলোচনা ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে ফিরেই জিম্বাবুয়ে সফর, আজই উড়াল দেবে নুরুল হাসান সোহানের দল। বিমানে চড়ার আগে গোটা দলকে মধ্যাহ্নভোজে ডেকেছে বিসিবি। গতকাল সোমবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে হাজির হয়েছিলেন জিম্বাবুয়ে সফরের জন্য দুই ফরম্যাটের দলে ডাক পাওয়া ক্রিকেটাররা। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের আয়োজনে মধ্যাহ্ন ভোজে ক্রিকেটারদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন বিসিবির কর্তারা।

ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালও এসেছিলেন এই আয়োজনে। পরে নতুন টি-২০ অধিনায়ক সোহানকে পাশে বসিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন। অসুস্থতার কারণে ক্যারিবিয়ানে না গেলেও সুজন এবার জিম্বাবুয়ে সফরে দলের সঙ্গী হচ্ছেন।

সিনিয়র ক্রিকেটারদের ছাড়া টি-২০ দলটার আলোচনায় সুজন সরাসরি বলেছেন, ব্যক্তি-নাম নয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাংলাদেশ দল। এ ফরম্যাটে নতুন কিছু করার চেষ্টাতেই তারুণ্যনির্ভর দল ঘোষণা করেছে বিসিবি।

টিম ডিরেক্টর গতকাল বলেছেন, ‘আমি সবার আগেই বলেছি বাংলাদেশ ক্রিকেট গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি, কোনো নাম, কোনো কিছুই গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমরা এই ফরম্যাটটা ভালো খেলছি না। এই ফরম্যাটে সময় এসেছে আমরা অন্য কিছু করতে পারি কিনা (দেখার)। আপনি যদি ১৫০ এর বেশি স্কোর নিয়মিত করতে পারেন, তারপরে আপনি ভালো বোলিং, ফিল্ডিং করলে ম্যাচ জিতবেন। কিন্তু এই ১৫০ করাটাই চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে আমাদের জন্য।’

শুধু দুই-তিন জন নয় সাফল্য পেতে গোটা দলকে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে হবে। সুজন এই বার্তাই দিয়েছেন টি-২০ দলের ক্রিকেটারদের। বিসিবির এ পরিচালক বলেন, ‘আমরা খেলোয়াড়দের মাথায় এটাই ঢুকাইতে চাই যে দুই-তিনজন ভয়ডরহীন খেললে হবে না। পুরো দলকেই ভয়ডরহীন খেলতে হবে, বোধ বুদ্ধি দিয়ে খেলতে হবে। সাহস ছাড়া কোনো কিছুই নাই।’

ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তুলতে হলে তরুণদের পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে। সুজন বলেছেন, তরুণদের সুযোগ দিতেই সিনিয়রদের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। সাবেক এ অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা আসলে কোথা থেকে খেলোয়াড় বের করে আনব? তরুণদের তো সুযোগ দিতে হবে। এত দিন যেহেতু সিনিয়র প্লেয়াররা খেলছে, জুনিয়ররা সেভাবে সুযোগ পাচ্ছিল না। হয়তো কোনো ম্যাচে খেলছে কোনো ম্যাচে খেলছে না।’

মুশফিক-মাহমুদউল্লাহদের পরখ করার কিছু নেই আর। তারা আর বেশিদিন খেলবেনও না। এখন বরং তরুণদের সুযোগ দিয়ে দায়িত্ব নিতে শেখাতে হবে। সুজন বলেন, ‘রিয়াদ, মুশফিক, সাকিব এরা কিন্তু পরীক্ষিত। তাদের দেখার কিছু নাই, বাংলাদেশকে অনেক বড় বড় ম্যাচ জিতিয়েছে। দিন শেষে তারা সারাজীবন ক্রিকেট খেলবে না এটাও সত্য।’