দনিয়ায় গ্যাসলাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ

ভবনের দেওয়াল চুরমার : নিহত ১, আহত ৫

রাজধানীর শনির আখড়ার দনিয়ায় একটি ভবনে গ্যাস পাইপলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দেওয়াল ধসে ফরিদ উদ্দিন নামের এক টুপি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন স্থানীয় হক বেকারির ম্যানেজার কামাল হোসেন, ভ্যানচালক সাইদুল ইসলাম ও ফল ব্যবসায়ী জাকির হোসেনসহ পাঁচজন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার সকালে দনিয়ার একটি তিনতলা ভবনে এ বিস্ফোরণের ঘটনায় ওই ভবনের দোতলা ও তিনতলায় অবস্থিত এক্সিম ব্যাংকের এসির বিস্ফোরণ ঘটে দেওয়ালসহ সামনের রাস্তায় ধসে পড়ে। এতে ব্যবসায়ী নিহত হওয়ার পাশাপাশি রাস্তায় ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা ও রিকশা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণের পর সেখানে আগুন ধরে গেলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহত ফরিদ যাত্রাবাড়ীর রসুলবাগের একটি বাড়িতে পরিবার নিয়ে থাকতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী এলাকায়। ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিস তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।  

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ওই ভবনের স্যুয়ারেজ লাইনের মধ্যে তিতাস গ্যাসের লাইনও ছিল। লাইনটি লিকেজ হয়ে এর গ্যাস ভবনের তৃতীয় তলায় জমা হয়। সেখানে বিস্ফোরিত হলে এক্সিম ব্যাংকের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার দেওয়াল ধসে নিচে পড়ে। এ সময় নিচে থাকা ফরিদ উদ্দিন দেওয়ালচাপায় গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন।

কদমতলী থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর বলেন, ভবনের তৃতীয় তলায় গ্যাস জমে ছিল। জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণ অথবা এসির বিস্ফোরণ— কোনটি আগে ঘটেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত চলছে। সুরতহাল শেষে নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগীয় উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধন বলেন, ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের টিম গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গেই হতাহতের ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, ভবনটির নিচতলায় রেস্টুরেন্ট রয়েছে। বিস্ফোরণ হয়েছে তৃতীয় তলায় এক্সিম ব্যাংক থেকেই। গ্যাস লিকেজ হয়ে স্যুয়ারেজ লাইনের মাধ্যমে ওপরে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিস্ফোরণের পর বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে হয়তো আগুন লেগে থাকতে পারে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে পাঁচ টন এসি বিস্ফোরিত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সেখানে আগুন ও গ্যাসের আলামতও পাওয়া গেছে। নির্দিষ্ট করে এখনো কোনো কারণ বলা যাচ্ছে না। ঘটনাটির অধিকতর তদন্তের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদনের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।