দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটে যাত্রী দুর্ভোগ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের ঢল নেমেছে। এতে দুই ঘাট সংলগ্ন সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যাত্রীরা ঘাটে এসে পড়ছেন চরম দুর্ভোগে। বিশেষ করে দৌলতদিয়া ঘাট প্রান্তে লঞ্চ সংকট থাকায় যাত্রীদের তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

এদিকে পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট থেকে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ওঠেছে বাস মালিক ও শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। গত কয়েকদিন ধরে উভয় ঘাটে ঈদ ফেরত যাত্রীদের ভিড় থাকায় পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকরা গাড়ির কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ৩ থেকে ৪ গুণ ভাড়া আদায় করছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন।

লঞ্চ সংকট, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট

রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে দেখা গেছে লঞ্চ ঘাটে হাজারো মানুষে ঢল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে টিকিট নিচ্ছে যাত্রীরা। জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতরে যাত্রী সেবায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ৩৪টি লঞ্চ সার্বক্ষণিক চলাচল করার কথা থাকলেও সোমবার সকাল থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলছে মাত্র ২২টি লঞ্চ।

এছাড়া দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের প্রায় ৩ কিলোমিটার অদূরে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ৩টি সারিতে যাত্রীবাহী পরিবহন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস নদী পাড়ের অপেক্ষায় ছিল। তীব্র গরমে যাত্রীবাহী পরিবহনের শিশু, বৃদ্ধসহ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে।

একাধিক লঞ্চযাত্রী জানান, দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ লঞ্চ নেই। তীব্র গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে লঞ্চের টিকিট হাতে পেয়েছি। লঞ্চের টিকিট হাতে পেলেও লঞ্চ সংকট হওয়ায় যথাসময়ে গন্তব্যে যেতে পারছি না।

লঞ্চঘাট ম্যানেজার মো. নুরুল আনোয়ার মিলন জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ২২টি লঞ্চ দিয়ে সকাল থেকে বিকাল ৪টা নাগাদ যাত্রী পারাপার করা হয়েছে। পাটুরিয়ার আরিচা ঘাট থেকে পাবনার কাজীরহাট নৌরুটে ১২টি লঞ্চ চলাচল করেছে। বিকাল ৪টার পর ঐ নৌরুট থেকে ৭টি লঞ্চ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের লঞ্চ বহরে যোগ করা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ম্যানেজার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, দৌলতদিয়া ঘাট প্রান্তে গতকাল বিকাল ৫টা নাগাদ দুই শতাধিক যানবাহন নদী পারের অপেক্ষায় ছিল। এ নৌরুটে ১৯টি ফেরি সার্বক্ষণিক চলাচল করছে।

৮০ টাকা ভাড়া, ৫০০ দাবি

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার সময় পাটুরিয়া ঘাটে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাস সংকটের কারণে খোলা ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, রিকশা ভ্যানে করেও যাত্রীরা অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। বাসে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গতকাল বেলা দুইটার দিকে পাটুরিয়া লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় সৌখিন পরিবহনের একটি বাসে উঠার সময় কুষ্টিয়া এলাকার তিন যাত্রীর কাছে বাসের সহকারী পাটুরিয়া থেকে সাভার যেতে ভাড়া চাচ্ছে ৮০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা করে। অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ায় তারা প্রতিবাদও করেন। কিন্তু লাভ হয়নি। তারা এক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও কোনো গাড়িতে উঠতে পারেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, নীলাচল পরিবহনের বাসের চালক ও সহকারী যাত্রীদের কাছ থেকে পাটুরিয়া টু ঢাকার ভাড়া ২০০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ করে নিচ্ছে। পাটুরিয়া ঘাটে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করলে তাত্ক্ষণিক নীলাচল ও পলাশ পরিবহনের বাসের চালককে আটক করে সতর্ক করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত আদায়কৃত ভাড়া যাত্রীদের ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এদিকে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাদের লোকজন দিয়ে ঘাটের প্রতি গাড়ি থেকে প্রতি ট্রিপের জন্য ৩০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ করছেন কয়েকটি পরিবহনের বাসের চালক ও সহকারী।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম বলেন, সকাল থেকেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ আসছে। পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে পুলিশ মোতায়েন আছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধে তারা কাজ করছেন। মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে পাটুরিয়া ঘাটে এবং মহাসড়কে দুটি মোবাইল কোর্ট বসানো হয়েছে।