শরীয়তপুরে ব্যবসায়ীকে দিনদুপুরে কুপিয়ে হত্যা

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চান্দনি গ্রামে ইয়াকুব ছৈয়াল (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ইয়াকুবকে বাঁচাতে তার স্ত্রী শিরিন বেগম ছুটে আসলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করেছে বলে অভিযাগ পাওয়া গেছে।

নিহত ইয়াকুব চান্দনি গ্রামের আরশেদ আলী ছৈয়ালের ছেলে। তিনি চান্দনি বাজারের ইট-বালুর ব্যবসায়ী ছিলেন।

জানা গেছে, গতকাল সোমবার সকাল ৯টার দিকে চান্দনি কীর্তিনাশা নদীর তীরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি যাচ্ছিলেন ইয়াকুব। চান্দনি-ভোজেশ্বর বাইপাস সড়কে ঢালি বংশের লোকজন তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। নাসির ঢালির নেতৃত্বে ১০-১২ জন তাকে কুপিয়ে জখম করে। তারা এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য ৪-৫টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।

গ্রামবাসী ইয়াকুবকে উদ্ধার করে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথে মুন্সীগঞ্জের নিমতলা এলাকায় পৌঁছলে দুপুর একটার দিকে তিনি মারা যান। অভিযুক্ত নাসির ঢালিকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। ইয়াকুব ছৈয়ালের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পরলে ঢালি বংশের অধিকাংশ পরিবার এলাকা থেকে পালিয়েছে।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক আকন্দ বলেন, ছৈয়াল বংশ ও ঢালি বংশের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। দুইপক্ষের বিরুদ্ধেই থানায় মামলা রয়েছে। পূর্বশত্রুতার জেরেই ইয়াকুব ছৈয়ালকে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের আটক করার জন্য পুলিশ চেষ্টা করছে। এখনো থানায় কোনো মামলা করা হয়নি। ইয়াকুবের লাশ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নড়িয়া থানা ও গ্রামবাসী সূত্র জানায়, নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের চান্দনি গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় ছৈয়াল বংশ ও ঢালি বংশের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত্ বিরোধ রয়েছে। সর্বশেষ গত এপ্রিলেও ঢালি বংশের কয়েকজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। ঐ ঘটনায় করা মামলার  প্রধান আসামি ছিলেন ইয়াকুব ছৈয়াল।