চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে টানাপোড়ন চলছে। গ্যাস নির্ভর তিনটি বিদু্যত্ কেন্দ্র ও সিইউএফএল সার কারখানা বন্ধ রেখেও চট্টগ্রামে সরবরাহ লাইনে গ্যাসের চাপ বাড়ানো যাচ্ছে না। সরবরাহ লাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় শিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি আবাসিক ও বাণিজ্যিকদের সংযোগেও গ্যাসের চাপ উঠানামার কারণে গ্রাহকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
চট্টগ্রামে গ্যাস বিপণনের দায়িত্বে রয়েছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, সরবরাহ একদিকে চালু করতে গেলে অন্যদিকে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সিইউএফএল বন্ধ রেখে সাশ্রয়কৃত গ্যাস চট্টগ্রামের বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রামে এলএনজি গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়। বর্তমানে মহেশখালী টার্মিনাল থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। এলএনজি আমদানি কমে যাওয়ায় প্রাপ্ত গ্যাস দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে।
কোরবানির ঈদের পর থেকে চট্টগ্রামে গ্যাসের টানাপোড়ন চলছে। মাঝে মধ্যে আবাসিক সংযোগেও গ্যাসের চাপ কমে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান বিশেষ করে ভারী শিল্প কারখানায় গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। রি-রোলিং মিলগুলোতে প্রতিদিন প্রচুর গ্যাসের চাহিদা থাকে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় রি-রোলিং মিলগুলো উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে পারছে না।
কর্ণফুলি গ্যাস কোম্পানির শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, রি-রোলিং মিলগুলোতে যতটুকু পারা যায় গ্যাসের ব্যবহার কমানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। বৃহৎ শিল্প গ্রুপ বিএসআরএমের জিএম তপন সেন গুপ্ত বলেন, ‘গত বেশি কিছুদিন যাবত লাইনে গ্যাসের চাপ কমে গেছে। যেহেতু এটি জাতীয় সমস্যা আমরা সেভাবে গ্যাসের ব্যবহার করছি।’ চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা জানান, বিদু্যত্ ব্যবহৃত শিল্পকারখানা স্বাভাবিক ভাবে চলছে। তবে গ্যাসের চাপ মাঝে মধ্যে উঠানামা করছে।
চট্টগ্রামে যে তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে সেগুলোতে দৈনিক ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকে। আর সিইউএফএলে দৈনিক ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়।
কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রামে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা সাড়ে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে বর্তমানে চালু থাকা আবাসিক, বাণিজ্য ও শিল্প কারখানার গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৩১৫ মিলিয়ন ঘনফুট। সিইউএফএলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার পর চট্টগ্রামে দৈনিক ২৭১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা দাঁড়িয়েছে। ফলে এখন জাতীয় গ্রিড থেকে চট্টগ্রামে ২৭১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সিইউএফএলের বরাদ্দকৃত গ্যাস চট্টগ্রামের বাইরে সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। ফলে সরবরাহ লাইনে গ্যাসের চাপ বাড়ানো যাচ্ছে না।
কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রামে শিল্প কারখানাসহ অন্যান্য খাতে যে পরিমাণ গ্যাস সংযোগের আবেদন জমা রয়েছে তাতে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। কিন্তু চট্টগ্রামে এলএনজি সরবরাহ শুরু হওয়ার পর সরবরাহ ৩৪০ মিলিয়ন ঘটফুটের বেশি বাড়ানো যায়নি। বর্তমানে চট্টগ্রামে ২৭১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।