মেরামতির কাজের কথা বলে নর্ড স্ট্রিম ১ পাইপ লাইন দিয়ে জার্মানিতে গ্যাস সরবরাহ আবারও কমানোর পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। দেশটির প্রতিষ্ঠান গ্যাসপ্রম জানিয়েছে, আগামীতে সামর্থ্যের মাত্র ২০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করবে তারা।
ইউরোপে ঠিক যে সময় গ্রীষ্ম বিদায় নিতে চলেছে, সেই সময় নতুন এই পরিকল্পনার ঘোষণা দিলো তারা।
রাশিয়ার গ্যাস জায়ান্ট গ্যাসপ্রম সোমবার জানিয়েছে, বুধবার (২৭ জুলাই) থেকে নর্ড স্ট্রিম ১ পাইপ লাইন দিয়ে দৈনিক ৩ কোটি ৩০ লাখ ঘনমিটার গ্যাস কম দেবে তারা। বর্তমানে ওই পাইপ লাইন দিয়ে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ গ্যাস জার্মানিতে সরবরাহ করছে রাশিয়া। বুধবার থেকে সেটা ২০ শতাংশে পৌঁছাবে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের কারণে একটি টার্বাইনের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হচ্ছে বলেই তারা গ্যাস সরবরাহ কমাতে বাধ্য হচ্ছে।
জার্মান অর্থনীতিমন্ত্রী রবার্ট হাবেক বলেছেন, আমরা কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্ক সংস্থা এবং গ্যাস সংকট নিয়ে কর্মরত দলের সাথে এ ব্যাপারে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের কাছে যেসব তথ্য এসেছে তাতে কোথাও যান্ত্রিক ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তিনি ডিপিএ সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, রাশিয়া নিজে চুক্তি ভঙ্গ করছে আর অন্যদের দায়ী করছে৷। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতন কূটনৈতিক খেলা শুরু করেছেন বলে মনে করেন তিনি।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলোর অবরোধের মুখে মস্কো ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ কমাতে শুরু করে। জার্মানি মনে করছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবরোধের প্রতিশোধ নিতেই রাশিয়ার এই পদক্ষেপ।
এর আগে ১০ দিন বন্ধ থাকার পর ২২ জুলাই নর্ড স্ট্রিম ১ দিয়ে জার্মানিতে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছিল রাশিয়া, তবে সেটাও আগের থেকে অনেক কম, ক্ষমতার মাত্র ৩০ শতাংশ। নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনটি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের উত্তরে শুরু হয়ে জার্মানির উত্তর বাল্টিক সাগরের কাছেগ্রাইফসভাল্ডে গিয়ে শেষ হয়েছে।
জার্মানির অর্থনীতিমন্ত্রী বলেন, রাশিয়া তাদের গ্যাসকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা একটা অনিশ্চয়তার অবস্থা তৈরি করছে, পাশাপাশি দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে। শীতে যাতে আমাদের কোনো সমস্যা না হয় সে ব্যাপারে আমরা সবাই একজোট হয়ে প্রতিকারের উপায় খুঁজছি।
মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) ইউরোপীয় ইউনিয়নের মন্ত্রীরা গ্যাসের ব্যবহার কমানোর ব্যাপারে আলোচনা করতে বৈঠকে বসবেন।
এদিকে, টার্বাইন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সিমেন্স রাশিয়ার যুক্তি উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, টার্বাইনগুলো প্রায়ই রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কিছুসময় বন্ধ রাখার কথা। কিন্তু গত ১০ বছরে একবারও রাশিয়া টার্বাইন নিয়ে অভিযোগ করেনি। গ্যাসপ্রম এ ব্যাপারে তাদের কাছে কোনো নথিপত্র জমা দেয়নি বলেও জানিয়েছে সিমেন্স।