জাবির উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন ১২ আগস্ট

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য নিয়োগের জন্য তিন সদস্যের উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন আগামী ১২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার (২৭ জুলাই) বেলা সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রহিমা কানিজ বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক মৌখিকভাবে নির্দেশ পেয়ে তিন সদস্যের উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে জরুরি সিনেট সভায় এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৮২ জন সিনেটর অংশগ্রহণ করবেন।

নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রদানকারী সিনেটরদের মধ্যে ৬৩ জন সিনেটরের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে মেয়াদোত্তীর্ণদের নিয়ে নির্বাচনে কোন আইনি বাঁধা নেই বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্টের ১১(১) ধারা অনুযায়ী সিনেট সভায় এ নির্বাচন করতে হয়। নির্বাচন সংক্রান্ত সংবিধি অনুযায়ী, সিনেটের সচিব তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। 

নির্বাচনে শুধুমাত্র নির্বাচিত সিনেটর ও সিন্ডিকেট সদস্যরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এতে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত তিনজনের প্যানেল মনোনয়ন শেষে তা রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের কাছে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতি তাঁর ক্ষমতাবলে প্যানেলের যে কাউকে উপাচার্য হিসেবে চার বছরের জন্য মনোনয়ন দেন। 


এদিকে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের মোট চারটি প্যানেলের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে বিএনপি ও বামপন্থী শিক্ষকরা এখনও প্যানেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। এছাড়া আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের মোট চারটি প্যানেল হওয়ায় আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’-এর মধ্যে ভাঙন সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন অনেকে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা ছাড়া ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের লিখিত নির্দেশনা ছাড়াই মৌখিক নির্দেশে নির্বাচন আয়োজন করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষকদের একটি অংশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক ইত্তেফাককে বলেন, বর্তমান উপাচার্য পুনরায় উপাচার্য হওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করে লিখিত নির্দেশনা ছাড়াই শুধুমাত্র মৌখিক নির্দেশে নির্বাচনের আয়োজন করেছেন। এছাড়া তিনি আওয়ামীপন্থী সকল শিক্ষকের মত না নিয়ে বিতর্কিতদের নিয়ে প্যানেল করতে যাচ্ছেন।

আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’র সহ-সভাপতি অধ্যাপক মোহা. মুজিবুর রহমান বলেন, এখন উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন হলে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের থেকেই চারটি প্যানেল তৈরি হবে। এছাড়া বিদ্যমান সিনেটরদের মধ্যে ৬৩ জন সদস্যের মেয়াদ শেষ। এ অবস্থায় উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন সমীচীন হবে না। তাছাড়া এ ধরনের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন। যা এখনও আসেনি, এমনকি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের লিখিত আদেশও দেওয়া হয়নি।

সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. খালিদ কুদ্দুস বলেন, উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন নিয়ে আমাদের সংগঠনের মধ্যে কোন ধরনের আলোচনা হয়নি। যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা নেই ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের লিখিত নির্দেশনা ছাড়াই শুধুমাত্র মৌখিক নির্দেশে নির্বাচন আয়োজন এবং শোকের মাস আগস্টে নির্বাচন আয়োজন করা কতটা সাংঘর্ষিক হবে—তা বিবেচনা করা উচিত ছিল।

সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জাবির অধ্যাদেশ ১৯৭৩ অনুযায়ী ১১ (২) ধারা অনুসৃত হওয়া উচিত ছিল। যেহেতু আগস্ট মাস শোকের মাস, সেহেতু এ মাসে নির্বাচন আয়োজন থেকে বিরত থাকা উচিত ছিল। তবে আগামী ১২ আগস্ট উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের তারিখ ঘোষনা করা হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে আমরা গভীরভাবে ব্যথিত।

সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার বলেন, উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন নিয়ে আমরা আলোচনায় বসিনি। তবে শিগগিরই সংগঠনের সকল সদস্যদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নির্বাচনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নির্ধারণ করতে চাই। তাই আগামী ১২ আগস্ট জরুরি সিনেটে সিনেটরদের মতের ভিত্তিতে তিনজন উপাচার্য প্যানেলের নামের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। সেটা আচার্য মহোদয়ের কাছে পাঠানো হবে। আচার্য মহোদয় তিনজনের মধ্যে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য নির্ধারণ করবেন।