হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে রাস্তায় সন্তান প্রসব

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে বেসরকারি হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরে শেষ পর্যন্ত রাস্তায় সন্তান প্রসব করেছেন একজন দরিদ্র মা। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মা ও শিশু দুজনকেই বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

বরগুনা উপজেলার ফুলঝুরি এলাকার রিকশাচালক ইব্রাহিমের স্ত্রী লিমা প্রসববেদনা নিয়ে গত মঙ্গলবার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। কী কারণে লিমাকে হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে ক্লিনিকে পাঠানো হলো জানতে বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সোহরাব হোসেনের ফোনে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি। তাই তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

শেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. জান্নাতুল আলম লিমা বলেন, ‘আমি ডিউটি শেষে বাসায় গিয়েছিলাম। কিছুক্ষণ পর খবর পাই, পশু হাসপাতাল সড়কে এক নারী সন্তান প্রসব করেছেন। তাকে উদ্ধার করে আমাদের এখানে আনা হয়েছে। তখন আমি সঙ্গে সঙ্গে ছুটে এসে ঐ নারীকে দেখি। তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় কারণে তার উন্নত চিকিৎসার দরকার, তাই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেছি। তবে নবজাতক সুস্হ আছে কিন্তু মা আশঙ্কামুক্ত নয়।’

জানা গেছে, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর গত মঙ্গলবার রাতে প্রচণ্ড প্রসববেদনায় ছটফট করছিলেন লিমা। হাসপাতালে চিকিৎসা না পেলে রাত ১০টায় আলরাজী নামের স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন কর্তব্যরত এক নার্স। বেসরকারি ঐ ক্লিনিকে গেলে সেখানেও চিকিৎসাসেবা দিতে অস্বীকৃতি জানায় কর্তৃপক্ষ। এরপরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বরগুনা জেলা যুবলীগের এক কর্মী আবু হানিফ দোলন। হাসপাতালসহ একাধিক বেসরকারি ক্লিনিকের সঙ্গে কথা বলেও প্রসূতি মা লিমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেননি তিনি। এমন পরিস্থিতিতে বরগুনার পশু হাসপাতাল সড়কেই সন্তান প্রসব করেন অভাগা মা লিমা। এরপর জেলা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেন। 

যুবলীগ নেতা আবু হানিফ দোলন বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আলরাজী ক্লিনিকের সামনে দিয়ে বাসায় যাচ্ছিলাম। এমন সময় ক্লিনিকের ভেতরে দুই নারীর আহাজারি শুনে তাদের কাছে গেলে পুরো বিষয়টি জানতে পারি। আমি ঐ প্রসূতিকে শেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। এর মধ্যে পথেই বাচ্চা প্রসব করেন।’

লিমার মা বলেন, ‘হাসপাতাল দিয়া মোগো প্রাইভেটে হাসপাতালে পাঠাইয়াছে। মোগো টাহা নাই তাও প্রত্যেকটা প্রাইভেট হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি চিকিৎসার লাইগা। হেগোও ডাক্তার নাই। কেউ পারল না আমার মাইয়ার চিকিৎসা দিতে। আমার নাতি শেষ পর্যন্ত রাস্তায় হওয়া লাগল।’