বার্মিংহামে বাংলাদেশ শিবির

‘গুডলাক বাংলাদেশ দল, কমনওয়েলথ গেমসে সফলতার জন্য দোয়া করছি।’

গত ২৬ জানুয়ারি ফেসবুক আইডিতে পোস্টটা দিয়েছেন শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকী। কমনওয়েলথ গেমসের সর্বশেষ দুই আসরে (গ্লাসগো, গোল্ড কোস্ট) বাংলাদেশের ‘সবেধন নীলমণি’ পদকজয়ী অ্যাথলেট তিনি। বার্মিংহামে কমনওয়েলথ গেমসের ২২তম আসরেও বাকী লাল-সবুজ পতাকাটা তুলে ধরতে পারতেন পদকের জয়ের মঞ্চে, কিন্তু তার এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর শুটারদের ভাগ্যবিড়ম্বিত কারণ এবার শুটিং ডিসিপ্লিনটাই নেই।

আর শুটিং না থাকায় বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশ দলের ‘আবহ’ সংগীত হয়ে গেছে পদক জয় নয়, অংশগ্রহণই বড় কথা।

সুড়ঙ্গের ভেতরে আলোর রেখা নেই দেখে, কঠিন বাস্তবতার কথা আগেই জানিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)।

গেমসে বাংলাদেশের শেফ দ্য মিশন আব্দুর রকিব মিন্টু (সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন) হয়তো বেশ নির্ভার। দলের সঙ্গে বার্মিংহামে আসেননি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসার কথা তার। কিন্তু গতকাল স্হানীয় সময় দুপুরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাকে ছাড়াই বার্মিংহামে আসা বাংলাদেশ দল ইতিমধ্যে অনুশীলন শুরু করে দিয়েছে। গতকাল বিকেলে দলটার রিসেপশনও হয়ে গেল। সেফ দ্য মিশনকে ছাড়াই হয়তো পথ চলার বাস্তবতা মেনে নিয়েছেন অ্যাথলেটরা। পরে টেবিল টেনিসের ম্যানেজার শফিউল্লাহ মুনীর গতকাল জানান, দলের সবাই সুস্হ আছেন। ইতিমধ্যে সবাই অনুশীলনও করেছেন।

ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত বলেছেন, অনুশীলন করেছেন বার্মিংহামে এসে। তবে এখানকার রাতের ঠান্ডায় কিছুটা অস্বস্তিতে আছেন। দিনে গরম হলেও রাতের বাতাস ও ঠান্ডায় ভুগছেন কেউ কেউ। আগামী ১ আগস্ট মাবিয়া অংশ নেবেন গেমসে। এবার কমনওয়েলথ গেমসে ৭ ডিসিপ্লিনে অংশ নেবে বাংলাদেশ। ডিসিপ্লিনগুলো হলো—অ্যাথলেটিকস, বক্সিং, জিমন্যাস্টিকস, সাঁতার, ভারোত্তোলন, কুস্তি ও টেবিল টেনিস। ২৯ জন ক্রীড়াবিদ ও ২১ জন অফিশিয়াল নিয়ে বাংলাদেশের কন্টিনজেন্ট হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছে। অ্যাথলেটিকস ও কুস্তি বাদে অন্য ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়েরা বার্মিংহামে পৌঁছে গেছেন। এত নৈরাশ্যের মধ্যেও বাংলাদেশ তাকিয়ে থাকবে প্রবাসী জিমন্যাস্ট আলী কাদের ও অ্যাথলেটিকস ইমরানুর রহমানের দিকে। যদি তারা স্বপ্নজয়ের আনন্দ উপহার দিতে পারেন বাংলাদেশকে। ওড়াতে পারেন লাল-সবুজ পতাকা। তারপরও ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্তসহ বাকিরা বার্মিংহামে সামর্থ্যের ছাপ রাখবেন, এমনটাই আশা বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের।

শুটার বাকী নেই এবার নিয়মের বেড়াজালে পড়ে, বাংলাদেশ শিবির তাই আলোহীন বলাই যায়। গত দুই আসরের পদকজয়ীর শুভকামনা পেলেও তার শূন্যতা কি পূরণ করতে পারবেন আলী কাদের, ইমরানুররা? আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই উত্তরটা পাওয়া যাবে বার্মিংহামে।