লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপারে বন্দর ব্যবহারের সরকারি ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বন্দর উপ-পরিচালকের সাথে পরিবহন শ্রমিকদের বিতণ্ডায় সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায় বুড়িমারী স্থলবন্দর নৈশবাস-কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সোমবার বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে দেশ-বিদেশের পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপারে বন্দর ব্যবহারের জন্য সরকার নির্ধারিত ৪২ টাকা ৭৫ পয়সা ফি বন্দর কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করতে হয়। পাসপোর্টধারী যাত্রীরা দীর্ঘদিন থেকে উল্লিখিত ফি পরিশোধ করে এলেও সোমবার স্থলবন্দর উপ-পরিচালক মনিরুল ইসলাম যাত্রী প্রতি ৪২ টাকা ৭৫ পয়সার স্থলে ১০০ টাকা দিতে হবে বলে বন্দরের যাত্রী পরিবহনে নিযুক্ত পরিবহন শ্রমিকদের জানান। অতিরিক্ত এ টাকা দিতে অস্বীকার করে বুড়িমারী স্থলবন্দর নৈশবাস-কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন তাত্ক্ষণিক সড়ক অবরোধ করে। ফলে বুড়িমারী স্থলবন্দরের ওপারে ভারতের চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দরে পণ্যবাহী কয়েক শত গাড়ি আটকা পড়ে। এ খবর পেয়ে লালমনিরহাট সহকারী পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) তাপস সরকার, পাটগ্রাম সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক কুমার দেব শর্মা, পাটগ্রাম থানার ওসি মনসুর আলী সরকার বুড়িমারী স্থলবন্দর নৈশবাস-কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাথে কথা বললে পরিবহন শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন।এ ব্যাপারে বুড়িমারী স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক মনিরুল ইসলামের সাথে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (অর্থ ও প্রশাসন) ও অতিরিক্ত সচিব মো. আলাউদ্দিন ফকির বলেন, ‘বুড়িমারী স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার যোগসাজশে কতিপয় দালাল পাসপোর্টধারী যাত্রীদের পাসপোর্ট হাতিয়ে নিয়ে সরকার নির্ধারিত ফি পরিশোধ না করেই অবৈধ সুবিধা লুফে নিত। এটা বন্ধ করতে বন্দরের উপ-পরিচালক মনিরুল ইসলাম ব্যবস্থা নেওয়ায় ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সড়ক অবরোধের ঘটনা সাজিয়েছে। বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’