জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের ৬ বারের সফল সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন বলেছেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলের এই পদ্মা সেতু রাজনৈতিকভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই সেতু বিরোধীদলগুলো করেনি কারণ ফরিদপুরের সঙ্গে ঢাকার দূরত্ব যেন কমে না যায়, ঢাকার আর ফরিদপুরের যেন এক না হয় সেই জন্য এটা রাজনৈতিক কারণেই করা হয়নি। পৃথিবীর অনেক দেশে কোন সমুদ্রবন্দর নেই। আর আমাদের এই দক্ষিণবঙ্গে পায়রা ও মোংলা দুইটি বন্দর রয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দর এই দক্ষিণাঞ্চলে। তাই দক্ষিণবঙ্গ বাংলাদেশের মধ্যে একটি অর্থনৈতিক শক্তির অঞ্চল।’
বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) দুপুরে মাদারীপুরের শিবচরে নূর-ই-আলম চৌধুরী অডিটোরিয়ামে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও স্মার্ট আইডি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথাগুলো বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক) এমপি।
এর আগে সকালে পদ্মা সেতুর পাড়ে মাদারীপুরের শিবচর ও শরীয়তপুরের জাজিরা অংশে নির্মাণাধীন শেখ হাসিনা তাঁতপল্লীর নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক) এমপি ও চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন এমপি।
এ সময় বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক) এমপি বলেন, ‘পদ্মা সেতুর সম্মুখভাগে গেটওয়েতে শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী নির্মাণ হচ্ছে। আমরা দক্ষিণবঙ্গে ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন গড়তে চাই। পদ্মা সেতুর শুরুতেই যদি একটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন থাকে তাহলে বেসরকারি খাত দেখে উদ্বুদ্ধ হবে। সেতুর পাড়েই সরকারেরই যেহেতু এত বড় প্রকল্প রয়েছে সেটি দেখে উদ্যোক্তারা ভাববে নিশ্চয়ই এখানে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা রয়েছে ইন্ডাস্ট্রি করার জন্য। এখানে সহজেই পদ্মা সেতু ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। যেহেতু কোন ইন্ডাস্ট্রি নেই, সেহেতু এখানে পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে।’
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আরও বলেন, ‘পদ্মা সেতু হওয়ায় বেসরকারি খাত খুঁজবে কোথায় কম মূল্যে জমি পাওয়া যায়। বিদ্যুতের ঘাটতি নেই পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা রয়েছে। তাঁত পল্লীর সুযোগ সুবিধা দেখে প্রাইভেট সেক্টর উদ্বুদ্ধ হবে।
গোলাম দস্তগীর এমপি তাঁত পল্লীতে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্য চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘চিফ হুইপ মহোদয়ের কঠোর ভূমিকার কারণেই এ প্রকল্পে গড়ে উঠা হাজারো অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সম্ভব হয়েছে। এতে সরকারের শত শত কোটি টাকা রক্ষা পেয়েছে। এ প্রকল্পের ব্যয় কমেছে।’
এ সময় বস্ত্র ও পাট সচিব মো. আব্দুর রউফ, তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম, বস্ত্র অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. নুরুজ্জামান, মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড.রহিমা খাতুন, পুলিশ সুপার মো. গোলাম মোস্তফা রাসেল,শিবচর পৌর মেয়র মো. আওলাদ হোসেন খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিয়াজুর রহমান, সাবেক পৌর প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসলেমউদ্দিন খান, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. সেলিম, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. তোফাজ্জল হোসেন খান আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। এদিন মন্ত্রী ও চিফ হুইপ বস্ত্র অধিদফতর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন শেখ হাসিনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ পরিদর্শন করেন।