দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সীমান্ত পথে ভ্রমণপিপাসু ও চিকিৎসা সেবা নিতে ভারতগামী পাসপোর্টধারী যাত্রীর চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। করোনা মহামারিতে দুই বছর বন্ধ থাকার পর ভ্রমণ ভিসা চালু হওয়ায় স্থলবন্দর দিয়ে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা।
জানা গেছে, প্রতিদিন আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে প্রায় ১ থেকে দেড় হাজার যাত্রী ভারত-বাংলাদেশে যাতায়াত করে থাকে। এই যাত্রীসংখ্যার বিপরীতে বর্তমান আখাউড়া ইমিগ্রেশন ভবনটি একেবারেই ছোট এবং জরাজীর্ণ। বারবার সংস্কার করে কোনো রকমে টিকিয়ে রাখা হয়েছে ভবনটি। টানা বৃষ্টি হলে হাঁটুপানি জমে ইমিগ্রেশন ভবনের সামনে। তখন যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। বর্তমান ভবনটিতে যাত্রীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত বসার জায়গা এবং টয়লেট ও বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্হা।
অপর দিকে আখাউড়া ইমিগ্রেশনে নির্মাণাধীন নতুন ভবনের কাজ ভারতীয় বিএসএফের বাধার মুখে গত সাড়ে পাঁচ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে পুরাতন ভবনে স্থান সংকুলান না হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে প্রচণ্ড রোদ কিংবা বৃষ্টির মধ্যেও যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম থেকে আসা ভারতগামী যাত্রী বিমল ঘোষ (৫৫) বললেন, এত গরমের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অসুস্থতা বোধ করছি। পর্যাপ্তসংখ্যক ফ্যান বা এসি না থাকার কারণে প্রচণ্ড গরমে ইমিগ্রেশন রুমের ভেতর থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, প্রতিদিন ভ্রমণ ও চিকিৎসা ভিসা নিয়ে প্রায় ১ হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করছে। যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ থাকার কারণে কাজ করতে অনেক সময় বেগ পেতে হয়। ইমিগ্রেশন রুমটি ছোট হওয়ায় যাত্রীদের সমাগমে রুমটি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এছাড়া বিদ্যুতের লোডশেডিং ও সার্ভার জটিলতাও দেখা দেয়। এতে করে যাত্রীদের সেবা দিতে গিয়ে আমাদেরও অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আশা করছি নতুন ইমিগ্রেশন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলে কোনো সমস্যা থাকবে না।
জয়নাল নামে আরেক যাত্রী বলেন, আমাদের বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই ভারতে চলে যেতে পারি কিন্তু ভারতের আগরতলা ইমিগ্রেশনে বিএসএফের চার দফা তল্লাশি ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ব্যাগেজ তল্লাশি, ইমিগ্রেশনের সার্ভার জটিলতা, বায়োমেটিÌক পদ্ধতিতে ফিঙ্গার প্রিন্ট পরীক্ষা এবং ইন্টারনেটে ধীরগতিসহ কড়া নজরদারির ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রীরা। তাদের এই ধীরগতির কারণে যাত্রীরা প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়েন। আখাউড়া-আগরতলা চেকপোস্টে যাত্রী পরিষেবা বাড়ানো এবং যাত্রী হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এ পথে চলাচলকারী পাসপোর্টধারী যাত্রীরা।