নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে কাবিনের টাকার জন্য ধারালো ব্লেড দিয়ে প্রাক্তন স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটার অভিযোগে শিলা নামে একজন নারীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) রাতে এ ঘটনায় তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্ত্রী নাদিয়া ইশরাত শিলাকে (২৫) আসামি করে ভুক্তভোগীর মা মমতাজ বেগম বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করলে শুক্রবার (২৯ জুলাই) দুপুরে আসামিকে আদালতে পাঠায় পুলিশ।
অভিযুক্ত নাদিয়া ইশরাত শিলা, শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ থানার নাওডোবা এলাকার মৃত ইউসুফ মোল্লার মেয়ে। এর আগে তারা স্বামী-স্ত্রী থাকাকালীন সময় সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজির সিআই খোলা এলাকায় বাদশার বাড়িতে একটি রুম ভাড়া নিয়ে থাকতেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী রিপন হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার পরনের লুঙ্গি ভেজা এবং তার পুরুষাঙ্গ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে এবং তার স্ত্রী রুমে নেই। তার পুরুষাঙ্গ কাটা এবং বিচ্ছিন্ন। চিৎকার করলে পার্শ্ববর্তী কক্ষের ভাড়াটিয়া এসে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান এবং আশেপাশের লোকজন তার স্ত্রী শিলাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
আসামির বরাত দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মশিউর রহমান পিপিএম-বার বলেন, ‘অভিযুক্ত নাদিয়া ইশরাত শিলা পূর্ব আক্রোশে তার স্বামী রিপনকে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো ব্লেড দিয়ে পুরুষাঙ্গ কেটেছেন। এ ঘটনায় শুক্রবার ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করলে অভিযুক্ত নাদিয়া ইশরাত শিলাকে গ্রেফতার করে শুক্রবার বিকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী রিপনের প্রথম স্ত্রী ও তার মা মমতাজ বেগম জানান, রিপন পেশায় একজন গাড়ি চালক। চলাচলের একপর্যায় ইপিজেডের গার্মেন্টস কর্মী নাদিয়া ইশরাত শিলার সঙ্গে গত ২ বছর আগে পরিচয় হয়। এরপর তারা গোপনে ৩ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে করেন। তখন রিপনের প্রথম স্ত্রী ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। রিপনের গোপনে বিয়ের বিষয়টি পরিবারের সবাই জেনে যান। বিয়ের কয়দিন পরেই ২য় স্ত্রী রিপনকে চাপ দেন কাবিনের টাকা বুঝিয়ে দিতে, না হয় প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দিতে। কিন্তু অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন ডিভোর্স কার্যকর হয় না এটা ২য় স্ত্রী শিলা জানতেন না। এদিকে রিপনের প্রথম স্ত্রী প্রসব করেন একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তান। সন্তান জন্ম হওয়ার পরপরই কাবিনের টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন ২য় স্ত্রী শিলা। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে সবার সম্মতিতে ২য় স্ত্রী শিলাকে ডিভোর্স দেন রিপন। নগদ দেড় লাখ টাকা বুঝিয়ে দেন, বাকি দের লাখ তিন মাসের সময় নিয়ে একটি চুক্তি হয়। কয়দিন যাওয়ার পরেই টাকার জন্য চাপ দেন শিলা।
ঘটনার দিন বুধবার (২৭ জুলাই) রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাসায় রিপনকে ফোন করে ডেকে আনেন শিলা। রিপনকে শিলা জানান, তিনি সতীনের সঙ্গে মিলেমিশে সংসার করবেন, তার বাকি টাকা লাগবে না বরং যে টাকা শিলা ডিভোর্স বাবদ নিয়েছেন, সেটা রিপনকে ব্যাংক থেকে উঠিয়ে ফেরত দিতে চান। কিন্তু ডেকে নিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যই রিপনের পুরুষাঙ্গ কেটেছেন। বর্তমানে রিপন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।