কৈয়গ্রাম সেতু হলে বঙ্গবন্ধু টানেলে যুক্ত হবে পটিয়া

২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে নির্মাণ শুরু হলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আংশিক সমাপ্তির পর অনেকটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল শিকলবাহা খালের ওপর নির্মিতব্য পটিয়া কৈয়গ্রাম সেতুর কাজ। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের তাদের পাওনা ২২ কোটি টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার পর পুরোদমে শুরু হয়েছে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর কাজ। সেতুটি নির্মিত হলে কর্ণফুলীর তলদেশে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু টানেলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে পটিয়া। এর ফলে সেতুর দুই পাশে রাস্তা ও খালের তীরে গড়ে উঠবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকারখানা। এমনটাই আশা করছেন পটিয়া ইন্দ্রপোল লবণ শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ।

৩৯০ মিটার সেতুটির পিয়ার সংখ্যা আটটি। এর মধ্যে নদীর অভ্যন্তরে নৌ-চলাচলের সুবিধার্থে পিয়ার রাখা হয়েছে দুইটি। মোট ৯টি স্প্যান নিয়ে নির্মিত সেতুটির পূর্ব পাড়ে সংযোগ সড়ক ৫০০ মিটার এবং পশ্চিম পাড়ে ৮০০ মিটার। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে কাজ শুরু হওয়ার পর এই পর্যন্ত ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে সেতুটি নির্মিত হচ্ছে। ব্রিজটির আটটি পিলারের মধ্যে খালে দুইটি পিলার এবং দুই পাড়ে ২৪ ফুট করে পাঁচটি গার্ডার থাকবে। স্পেনের দৈর্ঘ্য হবে ৪০ ও ৫০ মিটার। ইতিমধ্যে সেতুর পূর্বাংশে চারটি পিয়ার একটি এপার্টমেন্টের কাজ শেষ হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী বিশ্বজিত দত্ত জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের ৩০ জুনের আগেই সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হবে এবং যানবাহনের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

এলজিইডি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শিকলবাহা খালের ওপর ১৯৭১ সালের আগে একটি স্ট্রিল ব্রিজ ছিল। ঐ সেতুটি কৈয়গ্রাম সেতু হিসেবে পরিচিত। স্ট্রিল ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার পর প্রায় ২ দশক স্থানীয়রা নৌকা দিয়ে পারাপার হতেন। এই সেতুর পশ্চিম পাশের দিঘীরপাড় সড়কটি সরাসরি বঙ্গবন্ধু টানেলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং পূর্ব পাড়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াহিদুর রহমান সড়ক হয়ে পরে পটিয়া আমজুর হাট বঙ্গবন্ধু সড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের বিকল্প পথে দূরত্ব কমবে প্রায় ১০ কিলোমিটার। বর্তমান সরকার ২০১৭ সালে এলজিইডির অর্থায়নে ৩৯০ মিটারের একটি গার্ডার সেতু নির্মাণকাজ শুরু করে। সেতু নির্মাণ কাজের শুরুতে ভূমি অধিগ্রহণসহ ৪১ কোটি ২৫ লাখ ৪২ হাজার ২৭৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

পটিয়া উপজেলা প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ দত্ত জানিয়েছেন, শিকলবাহা খালের ওপর পিসি গার্ডার সেতুর বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (বিআইডব্লিউটিএ) খালের ওয়াটার লেভেলের রিপোর্ট দেওয়ার পর এলজিইডির অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার হয়।