শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, বর্তমানে শিক্ষার অনেকগুলো মাধ্যম রয়েছে। শুধুমাত্র বই একমাত্র মাধ্যম না; শিক্ষকই একমাত্র উৎস না। কিন্তু অনেক সময় শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকগুলো বেশ বিরক্তিকর হয়। তাই পাঠ্যপুস্তকগুলো আকর্ষণীয় করতে হবে; যাতে কোন বিষয় পড়ার পর তার পেছনের বিষয়ে জানতে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ তৈরি হয়। পাশাপাশি বইয়ের ভাষা প্রাঞ্জল করতে হবে; যাতে শিক্ষার্থীরা আনন্দের সাথে পড়তে পারে।
শনিবার (৩০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জহির রায়হান মিলনায়তনে জাবি সায়েন্স ক্লাব আয়োজিত ৮ম গণিত অলিম্পিয়াডের পুরস্কার বিতরণী ও গুণিজন সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
দীপু মনি বলেন, চতুর্দিকে শুনি সবাই গণিত ও বিজ্ঞানের কথা বলছে। সবাই বিজ্ঞান, প্রযুক্তিবিদ্যা, যন্ত্রবিজ্ঞান ও গণিত পড়তে বলছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও একবিংশ শতাব্দীর যুগে এগুলো খুব জরুরি। তবে এগুলোর সাথে সংবেদনশীলতা, সৌন্দর্যবোধ ও নান্দনিকতাবোধ থাকলে পরিপূর্ণ হয়। কারণ এগুলো যদি আমাদের মধ্যে তৈরি না হয়; তাহলে বড় বিজ্ঞানী হয়ে গেলেও মূল লক্ষ্য অর্জন হবে না।
তিনি বলেন, অনেকে গণিতকে ভয় পায়। তবে গণিতকে ভয় পেলে চলবে না। কারণ জ্ঞানের গভীরতম পর্যায়ে পৌছাতে হলে গণিত শিখত হবে। যখন গণিতের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হবে, তখন বুঝবেন জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় ভালো করছেন। আর গণিত অলিম্পিয়াডের মতো অনুষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের গণিতের প্রতি ভয় দূর করে ভালোবাসা ও দক্ষতা তৈরিতে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা আনন্দের মধ্য দিয়ে পড়াশোনা করুক। তাদের শিক্ষাগ্রহণের অভিজ্ঞতা হোক আনন্দময়। ক্লাস-পরীক্ষার চাপে শিক্ষার্থীদের শেখার অনেক জায়গা হারিয়ে গেছে। আমরা সেই জায়গাগুলো ফিরিয়ে আনতে চাই। শিক্ষার্থীদের শেখাটা যেন সক্রিয় শিখন হয়।
মন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য তৈরি হতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যদি চ্যালেঞ্জ দেখে ভয় পেতেন; তাহলে দেশে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও কর্ণফুলী টানেলের মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন হতো না।
জাবির উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শনায় দেশে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটেছে। করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ায় সেশন জট কিছুটা হলেও কমেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্ব ও সাহসিকতায় দেশে পদ্মা সেতুসহ বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। এছাড়া দেশের এমন কোন জায়গা নেই, যেখানে উন্নয়ন হয়নি।
ঢাকা-২০ এর সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বেনজীর আহমদ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় ও শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে আমুল পরিবর্তন এসেছে। আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হওয়ায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। এ বিশ্ববিদ্যালয় ভালো লেখাপড়ার দিক দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক রাশেদা আখতার, গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদের ডিন অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ এ মামুন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক লায়েক সাজ্জাদ এন্দেল্লাহ, আইআইটির অধ্যাপক এম. মেসবাহউদ্দিন সরকার, সায়েন্স ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা ও ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর কবীর, ছাত্রলীগ জাবি শাখার সভাপতি আক্তারুজ্জামান সোহেল এবং সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটন প্রমুখ।