‘হুমকি আছে, তবে পিছু হটবে না তাইওয়ান’

নিজ কার্যালয় থেকে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন বলেছেন, তার দেশ বড় ধরনের সামরিক হুমকির মুখে রয়েছে। তবে তাইওয়ান পিছু হটবে না। মঙ্গলবার (২ জুলাই) সাই ইং-ওয়েন এ কথা বলেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

তিনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখবো। একইসঙ্গে যৌথভাবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্য আমরা বিশ্বের সব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা এবং ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই।’ এই দ্বীপের ওপর যেকোনো আগ্রাসন সমগ্র ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।’

স্থানীয় সময় বুধবার তাইওয়ানের পার্লামেন্টে ভাষণ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। বুধবার সকালে সেখানে দেওয়া এ ভাষণে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যে সংসদীয় আদানপ্রদান আরও বাড়াতে চান তিনি।

সকালে পার্লামেন্ট ভবনে পৌঁছালে সেখানে মার্কিন স্পিকারকে স্বাগত জানান পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট সাই খাই চং। পরে সেখানে দেওয়া ভাষণে তাইওয়ানের সমাজব্যবস্থাকে ‘বিশ্বের অন্যতম মুক্ত সমাজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন ন্যান্সি পেলোসি।

যুক্তরাষ্ট্রের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের ঘটনায় দেশটির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। বুধবার ভোরে অঞ্চলটি থেকে বেশ কিছু ফল, দুই ধরণের মাছ ও বালু আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

রাজনৈতিক মতবিরোধ সত্ত্বেও বেইজিংয়ের সঙ্গে তাইপের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বেশ গভীর। তাইওয়ানের রফতানির প্রায় ৩০ শতাংশই হয়ে থাকে চীনে। দুই পক্ষই পরস্পরের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।

এদিকে তাইওয়ানে ন্যান্সি পেলোসির ঐতিহাসিক সফরকে চরম বিপজ্জনক আখ্যা দিয়েছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রের স্পিকার আগুন নিয়ে খেলছেন বলেও অভিযোগ করেছে চীন। দেশটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আগুন নিয়ে যারা খেলবে তারাই নিজেরাই এতে ধ্বংস হয়ে যাবে।’