গাজীপুরের শ্রীপুরে তাকওয়া পরিবহনের বাস থেকে স্বামীকে ফেলে সঙ্গীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় শনিবার রাতে শ্রীপুর থানায় মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। এ ঘটনায় পাঁচ জনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান।
শুক্রবার (৫ আগস্ট) ভোর রাতে মাওনা চৌরাস্তা পার হয়ে শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার ঘুরে জয়দেবপুরের দিকে যাওয়ার পথে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলন্ত বাসে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- রাকিব মোল্লা (২৩), সুমন খান (২০), মো. সজীব (২৩), সুমন হাসান (২২) ও শাহীন মিয়া (১৯)। নির্যাতনের শিকার ওই নারী ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার দুবাইলা পাড়া এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থেকে কারখানায় চাকুরি করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ থেকে ভালুকায় কর্মস্থলে ফেরার জন্য শুক্রবার (৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে একতা পরিবহনের একটি বাসে করে রওনা হন। তারা শুক্রবার ভোর রাত ৩টার দিকে গাজীপুর মহানগরে ভোগড়া বাইপাস এলাকায় নামেন। এসময় তারা ভালুকায় ফেরার জন্য বাইপাস এলাকায় বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ পর্যায়ে তাকওয়া পরিবহনের বাস (গাজীপুর-জ-১১-০৩১১) এসে সামনে দাঁড়ায়। বাস চালকের সহকারী মো. সজীব মিয়া ভুক্তভোগী ও তার স্বামীকে বাসে উঠতে বলে। আর কোনো বাস পাবেন না ভেবে তারা তাকওয়া পরিবহনের ওই বাসে উঠেন। বাসে উঠে তারা দেখতে পান ৬/৭ জন যাত্রী আছে। বাসটি বাইপাস এলাকা থেকে ছেড়ে হোতাপাড়ায় পৌঁছালে সকল যাত্রীরা নেমে যায়।
রাত ৩টা ৪০ মিনিটের সময় বাসটি মাওনা চৌরাস্তা পার হওয়ার পর ভুক্তভোগী নারীর স্বামীকে বাসের স্টাফরা মারপিট করে হত্যার উদ্দেশ্যে এমসি বাজার এলাকায় বাস থেকে ফেলে দেয়। সেখান থেকে তিনি ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ীতে তার বোনের বাসায় যান। সকাল ৭টার দিকে ভুক্তভোগী নারী তার স্বামীর মোবাইলে ফোন করে জানান, তিনি গাজীপুর চৌরাস্তায় অবস্থান করছেন। পরে ছুটে গিয়ে স্বামী জানতে পারেন, তার স্ত্রী বাসের স্টাফদের দ্বারা দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এসময় তারা মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে।
ধর্ষণের পর অভিযুক্তরা ওই নারীকে রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে নির্জন স্থানে ফেলে রাখে। সেখান থেকে মহাসড়কের টহল পুলিশ তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর চৌরাস্তায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে শ্রীপুর থানা পুলিশ তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজ উদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সার জন্য ভর্তি করে। এ ঘটনার খবর পেয়ে গাজীপুর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তারা ৫ ধর্ষককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলাদায়ের করেন।
শ্রীপুর থানার পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান জানান, তাকওয়া পরিবহনে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনার লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।