চলচ্চিত্র শিল্পে বাকযুদ্ধ বাড়ছেই!

সিনেমা হল আবারো দর্শক কোলাহলে মুখরিত হতে শুরু করেছে। তাই ছবির পরিচালক-প্রযোজকরাও আবারও যেন নড়েচড়ে বসেছেন। সকলেই প্রত্যাশা করছে ছবি ব্যাবসার দিন আবারও ফিরতে শুরু করবে। এরই ভেতরে প্রতি সপ্তাহে ছবি রিলিজের সংখ্যাও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন অনেকেই।

তবে এর বাইরে কুট-তর্ক আর পারস্পরিক বিভেদটাও কম নেই। সম্প্রতি জাগো এফ এম এর ‘রাতাড্ডা’ লাইভ শোতে চিত্রনায়ক বাপ্পী চৌধুরী সিনিয়র সহকর্মী মিশা সওদাগরকে নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, ‘উনি যখন পরাণ ছবি দেখতে যান তখন সেই ছবির নায়ককে বলেন সেরা নায়ক। আবার হাওয়া ছবি দেখতে গিয়ে তার নায়ককে সেরা বলেছেন। অথচ আমাকেও তিনি শাকিব খানের পরে দ্বিতীয় সেরা নায়ক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।’

মূলত বাপ্পী চৌধুরীর এই মন্তব্যের পরপরই ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানান ধরণের মন্তব্যের ঝড় ওঠে। অনেকে বাড়তি কথা যোগ করে দুজনের ভেতরেই দ্বন্দ্ব’র আভাস দেন।

অন্যদিকে এ ধরণের মতামতের প্রতিউত্তরে মিশা সওদাগর বলেন, ‘আমি আমার জুনিয়র কলিগদের উত্সাহ দিয়েছি। এবং সবসময়ই তা দিয়ে থাকি। এখন একজন সিনিয়রের কথার পরে তা নিয়ে জুনিয়র আর্টিস্টরা কিভাবে মন্তব্য করবে সেটা তো বাপ্পীর একটু শেখা উচিত। একেই তো বলে শিষ্টাচার। এখন এই শিষ্টাচারের বাইরে গিয়ে কথা বললে মুরুব্বি হিসেবে আমাদের লজ্জা পেতে হয়। কারণ দেখুন, ঠিক সময়ে বিয়ে করলে আমার হয়তো বাপ্পীর বয়সী একটা ছেলেও থাকতো। তাই ও আমার সন্তান তূল্য। ওকে আমি সেভাবে আদর স্নেহ করি। আর ওর এসব দিকে নজর না দিয়ে আমি মনে করি অভিনয়ের দিকে নজর দেয়া উচিত। বাপ্পীকে এখনও অন্যকে দিয়ে ডাবিং করাতে হয়। এটা দুঃখজনক। ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে আমি মনে করি বাপ্পীর এসব আচরণের চেয়েও উচিত কিভাবে ওর নিজের অভিনয়ের পারদর্শিতা অর্জন করবে।’

উল্লেখ্য, একে অপরের সম্পর্কে মন্তব্যের তীর ছুঁড়ে দেবার এই অভ্যেস এখন ইন্ডাস্ট্রিতে বলা চলে নিয়মিত। শিল্পী সমিতির নির্বাচন থেকে শুরু করে সর্বশেষ ঈদে দিন দ্যা ডে আর পরাণের ভেতরে মূলত পারস্পরিক বাকযুদ্ধটাই সর্বাধিক আলোচিত ও সমালোচিত ছিল।

তাই পরস্পরের প্রতি এই বিরুপ মন্তব্যের কারণে চলচ্চিত্রের পরিবেশ আরো অস্থিতিশীল ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার জায়গা হারাবে বলে অনেকেই মনে করেন।

এদিকে একাধিক নেটিজানদের ভেতরে ট্রল হবার পর বাপ্পী চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি মূলত তিল থেকে তাল বানানো হচ্ছে। একটা আড্ডায় নানান ধরণের কথাই ওঠে। সেই হিসেবেই কথাগুলো বলেছি। এটাকে এভাবে নেবার কোনো কারণ নাই।’

সকল দ্বন্দ্ব অভিমান আর পারস্পরিক বাকযুদ্ধেও অবসান হোক। চলচ্চিত্রে সুস্থ প্রতিযোগিতায় ফিরুক। এই প্রত্যাশায় এখন সকলের।