স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর
রংপুর প্রসিদ্ধ হাঁড়িভাঙা আম পাকার জন্য লালচে আভা ছড়াতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে দু-একটি গাছের আম ছিড়তে শুরু করেছেন চাষিরা। আর কয়েকদিন পরেই পুরোদমে বাজারে আসতে শুরু করবে হাঁড়িভাঙা।
বাংলাদেশে আমের নগরী বলে রাজশাহী ও এর আশ-পাশের জেলা পরিচিত হলেও এখন তাতে ভাগ বসিয়েছে রংপুরের হাঁড়িভাঙা আম। এতদিন রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি, ল্যাংড়া, হিমসাগর এবং মিশ্রিভোগ আমের কদর ছিল আমাদের দেশে। কিন্তু এখন এসব আমের সুখ্যাতিকে ছাপিয়ে হাঁড়িভাঙা আমের চাহিদা দেশ ছাপিয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। হাঁড়িভাঙা আমের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আমটি অত্যন্ত সুস্বাদু ও কোনো আঁশ নেই। বড় ও ছোট দুই ধরনের এই আম খুবই মিষ্টি ও সুস্বাদু এবং এর ঘ্রান খুব সুন্দর।
সরেজমিনে জেলার মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জ উপজেলার আম বাগান ঘুরে হাঁড়িভাঙা আমের লালচে বর্ণ ধারণ করার চিত্র চোখে পড়ে। এ সময় বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউপির হাঁড়িভাঙা আমচাষি মাহাফুজ ওয়াহিদ চয়ন জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার আমার বাগানে অনেক বেশি আম ধরেছে।
একই উপজেলার রামনাথপুর ইউপির আমচাষি হাসান মাহমুদ জানান, এ বছর আমের বাম্পার ফলন হয়েছে।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সরোয়ারুল হক জানান, চলতি মৌসুমে রংপুর জেলার আট উপজেলায় ১৫শ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, উত্তরাঞ্চলে আম সংরক্ষণ এবং জুস তৈরির কোনো কারখানা নেই। এ অঞ্চলে এ ধরনের কারখানা গড়ে উঠলে এর বাজার আরো ব্যাপক হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। হাঁড়িভাঙা আমের চাষ আরো বিস্তার লাভ করবে।