পাহাড়ধসের ট্র্যাজেডির দুই বছর
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড় ধসের ভয়াবহ ঘটনার দিন ১৩ জুন। ২০১৭ সনের জুন মাসের এই দিনে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর ও ইসলামপুর ইউনিয়নে পাহাড় ধসে ৪ পরিবারের ২২ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। বন্যার পানিতে ভেসে যায় আরও ৫ জন। ভয়াবহ এ ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় এখনও মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস রয়েছে। থামছে না পাহাড় কাটা। পাহাড় উজাড় করে মাটি যাচ্ছে ইটের ভাটায়।
রাজানগর এবং ইসলামপুর ইউনিয়নে সর্বাপেক্ষা বেশি মানুষ পাহাড়ে ঝুঁকিতে বসবাস করছে। এছাড়াও উপজেলা পদুয়া, দক্ষিণ রাজানগর, হোসনাবাদ, পারুয়া, লালানগর, পোমরা, চন্দ্রঘোনা, বেতাগী ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকায় পাহাড়ি অঞ্চলে কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হলেও এসব বসতিরা কর্নপাত করছে না। পদুয়া, রাজানগর, ইসলামপুর ইউনিয়নের পাহাড়ে বসবাসরত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নেওয়ার জন্য যথাসময়ে থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে বলা হয়েছে।
রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ মোহাম্মদ আহসানুল কাদের ভুঁইয়া জানান, থানার ভ্যানে করে মাইকিং করে সর্বত্র সতর্কতার কথা বলা হলেও মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস ছাড়তে রাজি নয়।
রাজানগর ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শামশুল আলম তালুকদার ও ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী মিল্টন এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পারুয়া, পদুয়া, পোমরা, বেতাগী, চন্দ্রঘোনা বনগ্রাম এলাকায় অনেক পরিবার পাহাড়ের খাদে বসবাস করছে। বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসের বিপদ ঠেকাতে দিনে সতর্ক অবস্থা এবং রাতে অন্যত্র সরে গিয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করে বলে এখানে বসতি স্থাপনকারীরা জানায়। চন্দ্রঘোনা বনগ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান জানান, ভূমিহীন অসহায় অনেক পরিবার নিরুপায় হয়ে পাহাড়ের নিচে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস করছে।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানান, পাহাড়ি এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের নিরাপদ বসতিতে স্থানান্তরের ব্যবস্থার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণকে বলা হয়েছে। এছাড়াও এলাকায় মাইকিং করে সবাইকে নিরাপদ স্থানে বসবাসের জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ আজাদুর রহমান মল্লিক বলেন, বেপরোয়া পাহাড় কাটার কারণে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড় ধস বন্ধ করতে পাহাড় কাটা বন্ধ করা জরুরি। এ ব্যাপারে প্রশাসনিক ব্যবস্থার জন্য বলা হয়েছে। পাহাড় কাটা এবং ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।