চারপাশ টিন দিয়ে ঘেরা। এর মধ্যে দুই পাশে রয়েছে কাপড়ের দোকান। ভেতরে যে পার্ক রয়েছে তা বাইরে থেকে কোনোভাবেই বোঝার উপায় নেই। দুটি কাপড়ের দোকানের মাঝখানে রয়েছে একটি ছোট গেট। আর সেই গেট দিয়েই ভেতরে প্রবেশ করছে ভবঘুরে ও ভাসমান মানুষ। তাদের আস্তানার কারণে পার্কের ভেতরের পরিবেশও ময়লা আবর্জনায় ভরা। এটি কাওরান বাজার পার্কের বর্তমান চিত্র। উন্নয়ন কাজের জন্য দীর্ঘদিন এভাবেই বন্ধ রাখা হয়েছে পার্কটি। পার্কের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, ডান পাশে পড়ে আছে বিশাল জায়গা জুড়ে ওয়্যারহাউজ। অন্য পাশে চলছে টয়লেটের কাজ। আর একপাশে রয়েছে এসটিএস (আবর্জনা ঘর)। এসব স্থাপনার কারণে ছোট হয়ে গেছে পার্কের উন্মুক্ত স্হান।
২০১৭ সালে উত্তর সিটি করপোরেশন জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও মানসিক স্বাস্হ্য বিকাশের জন্য ‘ডিএনসিসির উন্মুক্ত স্হানগুলো আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও সবুজায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় উত্তরের ২২টি পার্ক ও চারটি খেলার মাঠ দখলমুক্ত করে ব্যবহারোপযোগী করার কাজ শুরু করে। এ প্রকল্পের আওতায় বেশ কয়েকটি পার্ক ও খেলার মাঠের কাজ শেষে সাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করলেও এই পার্কটি এখনো পড়ে আছে বেহাল অবস্থায়। উন্নয়ন করে পার্কটিকে নতুনভাবে সাজিয়ে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার কথা থাকলেও, এটি এখনো টিন দিয়ে ঘেরা রয়েছে। সিটি করপোরেশন বলছে, পার্কের প্রায় ৯০ ভাগ কাজ শেষ। খুব শিগগিরই এটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। অথচ কাজের ধীর গতির কারণে এখনো পার্কটি উন্মুক্ত করতে পারছে না সিটি করপোরেশন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঠিকাদারপ্রতিষ্ঠান পার্কটি নিয়ে মনোযোগী না হওয়ায় এটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। তা না হলে ১০ শতাংশ কাজ করতে এত দিন লাগার কথা নয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, পার্কের ভেতর দুই জন শ্রমিক দেওয়াল নির্মাণের কাজ করছেন। অন্য দিকে নির্মাণাধীন অবস্থায় পড়ে আছে টয়লেট। পার্কের ভেতরে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ভ্যান গাড়ি। অনেকে আবার এর মধ্যে শুয়ে আছেন। পার্কের ভেতরে পড়ে আছে ময়লা আবর্জনা, নির্মাণসামগ্রী। ভেতরে ঢুকতেই ডান পাশে প্রথমে চোখে পড়ে একটি বিশাল ওয়্যারহাউজ। যার মধ্যে রয়েছে ভারী যন্ত্রপাতি। দুর্যোগ মোকাবিলা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এ ওয়্যারহাউজ।
জানা যায়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ঢাকায় দুর্যোগ মোকাবিলায় ২০১৫ সালে ৮১২ কোটি টাকার আরবান রিজিলিয়েন্স প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে দুই সিটি করপোরেশনের জন্য আটটি জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ওয়্যারহাউজ তৈরি করা হয়। প্রতিটি ওয়্যারহাউজ তৈরি ও মালামাল বাবদ ৯০ লাখ টাকা খরচ হয়। তবে এই ঘিঞ্জি জায়গায় পার্কের জায়গা দখল করে ওয়্যারহাউজ নির্মাণ ও এর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়রা জানান, পার্কটি অনেক দিন ধরে এভাবে পড়ে থাকায় এর মধ্যে কাওরানবাজারের দোকানিরা তাদের দোকানের জিনিসপত্র রাখেন। অন্যদিকে রাতের বেলা বসে মাদকের আসর। এই জনবহুল জায়গায় ছোট উন্মুক্ত জায়গা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় ক্ষোভ জানিয়েছেন তারা।
শামীম হোসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে কাজ শুরু হলেও এখনো কাজ শেষ করা হয়নি। ইচ্ছের অভাব থাকায় এটি এখনো চালু হয়নি। নয়তো আরো আগে চালু হতো। আগে তো খোলা থাকলে যে কেউ আসতে পারতো এতদিন বন্ধ থাকায়, এখন তো কেউ স্বাভাবিকভাবেই ভেতরে ঢুকবে না। এভাবে দিন দিন সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে রাজধানীর খোলা জায়গাগুলো। এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন, ‘পার্কের প্রায় ৯০ ভাগ কাজ শেষ। ওখানে কিছু উচ্ছেদের বিষয় আছে। তা হলেই পার্কটি চালু করা হবে। ওখানে এখন রাতের বেলা ভবঘুরেদের আড্ডা চলে। তাই চালু করলে সেখানে এক জন গার্ড রাখব। আশা করছি আগামী মাসে পার্কটি উদ্বোধন করতে পারব।’