কেনিয়ায় রোষানলে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো 

কেনিয়ায় বেশকিছু চীনা প্রতিষ্ঠান বিক্ষোভের মুখে পড়েছে। দুর্নীতি ও স্থানীয়দের সঙ্গে বৈষম্যের কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এমন এক সময়ে এই ঘটনা ঘটছে যখন কেনিয়ান সরকার চীন সরকারের সঙ্গে আরও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গঠনের দিকে এগিয়ে চলেছে।

চীন পুরো আফ্রিকাজুড়ে বহু ঋণ ও অবকাঠামগত উন্নয়নে অর্থ লগ্নি করে আসছে। আফ্রিকার বেশিরভাগ দেশই এই ঋণ পরিশোধ করতে দেশগুলোর প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদের ওপর নির্ভর করছে। এছাড়াও এই ঋণ পরিশোধের অংশ হিসেবে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আফ্রিকান নাগরিকরা মানবেতর উপায়ে শ্রম দিয়ে যাচ্ছে।

হংকং পোস্টের বরাতে জানা যায়, কেনিয়ায় চীনা অর্থায়নে নির্মিত এক্সপ্রেসওয়ে প্রজেক্ট সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিপুল পরিমাণ নির্মান খরচ ও কেনিয়ানদের থেকে উচ্চমানের টোল আদায়ের কারণে এই সমালোচনার সৃষ্টি হয়। 

ডলার ও স্থানীয় মুদ্রামানের অস্থিতিশীল অবস্থা কেনিয়াকে হিসেবের চেয়েও বেশি খরচ করতে হবে। 

হংকং পোস্ট আরও জানায়, কেনিয়ায় চীনা রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশন (সিবিআরসি) এখন পর্যন্ত প্রায় ৯৭কোটি ডলার আয়ের আশা করছে। তবে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি সামাজিক মাধ্যমে নিন্দার শিকার হয়।   

স্থানীয় পরিবেশবিদরা জানায়, সিবিআরসি এই এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ৪ হাজারের অধিক গাছ কেটে ফেলে। তাদের আরও কার্যক্রম পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরুপ। এর আগে ২০০৯ সালে ফিলিপাইনে এক কার্যক্রম চলাকালে বিশ্বব্যাংক সিবিআরসিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

কেনিয়ানরা চীনা এ সকল অবকাঠামোগত উন্নয়নকে দেশটির জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করছেন। যেখানে দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠদের কোন উন্নতি হবে না। কেনিয়ার বৈদেশিক ঋণ যা কিনা প্রায় ৫ কোটি ডলার। এরমধ্যে চীনের কাছেই ৭২শতাংশ ঋণগ্রস্ত।