প্রধানমন্ত্রী হলেও কি 'রং বদলাবেন' লিজ ট্রাস

লিজ ট্রাস ব্রিটেনের গভর্নিং কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্ব গ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বরিস জনসনের জায়গা নেয়ার সম্ভাবনা প্রবল। রাজনৈতিক অঙ্গনে বারবার রং বদলানো স্বভাবের এই নারী সম্প্রতি র‍্যাডিকাল অ্যাবলিশনিস্ট থেকে অব্যাহতি নিয়ে ইউরোস্কেপ্টিকের পতাকাবাহক হিসেবে যোগদান করেন।

২০১০ সালে সংসদে একবারই নির্বাচিত হন। এরপর তিনি খুব অল্পসময়ের মধ্যে তার এজেন্ডা বাস্তবায়নে নিরলস শক্তি ও স্পষ্ট ইচ্ছাশক্তির প্রয়োগ করেন। যা তাকে দ্রুত ভিন্ন পরিচিতি এনে দেয়।

সমালোচকরা তার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলেন, যে তিনি কিসের পক্ষে কথা বলছেন? যারা বছরব্যাপী তাকে পর্যবেক্ষণ করে আসছে তাদের ভাষ্যমতে লিজ ট্রাসের স্বতন্ত্র চিন্তার ও বিশ্বাসের অভাব রয়েছে। তিনি শুধুমাত্র সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যেটি সর্বোত্তম সেটিই করছেন। 

ট্রাসের রাজনৈতিক ইতিহাস বেশ বর্ণিল। বামপন্থী পরিবারে জন্ম নেওয়া লিজ যুক্তরাজ্যের যেসব অঞ্চলে কনজারভেটিভদের ভোট দেওয়ার রীতি নেই সেসব অঞ্চলে বেড়ে ওঠেন।

অক্সফোর্ডে পড়াকালীন সময়ে তিনি লিবারেল ডেমোক্র্যাটের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করেন। দলটি ইংল্যান্ডের বড় বড় অঞ্চলগুলোর কনজারভেটিভ পার্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী দল ছিল।

নীল ফকেট একজন লিবারেল ডেমোক্র্যাট কাউন্সিলর লিজকে উদ্দেশ্য করে বলেন, লিজ এমন একজন ব্যাক্তি যিনি যখন যেখানে দর্শক যেমন ঠিক তেমনভাবেই নিজেকে মিলিয়ে ফেলেন। তার নিজস্ব বিশ্বাস বলতে কিছু আছে কিনা এ ব্যাপারে সন্দেহ আছে। 

মজার বিষয় হলো তার 'ব্রেক্সিট' নিয়ে দ্বিমুখীতা প্রকাশ পায়। ২০১৬ সালে তিনি এর বিরুদ্ধে কথা বললেও পরবর্তীতে তিনি ব্রেক্সিটের পক্ষে কথা বলেন।

ক্ষমতার যত কাছে এগিয়ে আসছেন, যুক্তরাজ্যবাসী তার শুরু সম্পর্কে নানা জল্পনা কল্পনায় মত্ত। তার নির্বাচনী প্রচারণায় কনজারভেটিভদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের কথাই বেশি বলা হয়েছে। যার ফলে কনজারভেটিভদের সদস্যরা সবাই তাকে ভোট দিবে। 

কিন্তু যারা তাকে চেনেন তাদের প্রশ্ন হলো, লিজ কি আসলেই এসব বিশ্বাস করেন? বা এসব এজেন্ডা বাস্তবায়নে কতটুকু চেষ্টা চালাবেন তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

যুক্তরাজ্যের বর্তমান কঠিন সময়ে লিজ ট্রাস জিতলে তার দলে ঐক্য ফিরিয়ে আনতে বেশ ঝামেলা পোহাতে হবে। কেননা 'ব্রেক্সিট' নিয়ে দলের সদস্যরা দুই ভাগে বিভক্ত। এছাড়াও তার সামনে আরও সমস্যা বর্তমান। যা মোকাবেলায় তিনি কি ভূমিকা রাখেন এ ব্যাপারে সবাই চিন্তিত এবং আশাবাদী।