বৃষ্টির রোষানলে বিশ্বকাপ

শামীম হামিদ, বি্রস্টল (ইংল্যান্ড) থেকে

বৃষ্টি পেয়ে বসেছে বিশ্বকাপকে। ম্যাচ কিংবা অনুশীলন কোথাও স্বস্তি নেই ক্রিকেটারদের। টিকেট কেটে খেলা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন যেসব ক্রিকেট ভক্ত, তাদের জন্য সুসংবাদ নেই। যুক্তরাজ্যে এখন সামার বা গ্রীষ্মকাল। আর গরমকালেই চরম বৃষ্টি হয় এই দেশে। ফলে বিশ্বকাপের পুরোটা সময় জুড়েই বৃষ্টির আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

ইতোমধ্যে প্রকৃতির বিরুপ আচরণের কারণে পাকিস্তান ও শ্রীলংকার ম্যাচে একটা বলও মাঠে গড়ায়নি। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়েছে। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে আফগানিস্তানের সাথে ডিএলএস পদ্ধতিতে জয় পায় শ্রীলংকা। বাংলাদেশ টিমের জন্যও দুর্ভাগ্যের বার্তা দিচ্ছে প্রকৃতি। বৃষ্টির জন্য নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে খোলা মাঠে অনুশীলন করতে পারেনি বাংলাদেশ। এর আগে কার্ডিফে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচটিও হয়নি বৃষ্টির কারণে।

শ্রীলংকা ম্যাচ সামনে রেখে টিম বাংলাদেশ ব্রিস্টলে এসেছে গত রবিবার। ব্রিস্টলের মার্কারি হল্যান্ড হাউজ হোটেলে পা রাখার পর থেকেই বৃষ্টির রোষানলে পড়ে টিম। অবশ্য সোমবার অনুশীলনের সময় আকাশ মেঘলা থাকলেও বৃষ্টি হয়নি। তবে অনুশীলনের পর অধিনায়ক মাশরাফির সংবাদ সম্মেলন শেষ হতে না হতেই আবার ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হয়। ফলে স্টেডিয়ামে এসেও খোলা মাঠে আর গা গরম করার সুযোগ পায়নি হাতুরুসিংহের দল।

এদিকে, বৃষ্টির কারণে ম্যাচ বিঘ্নিত হওয়ায় ক্ষতিটা হলো বাংলাদেশেরই। গতকালের ম্যাচে বাংলাদেশই ছিল ফেবারিট। তাছাড়া পরপর দুই ম্যাচ হারের পর শ্রীলংকার সাথে ম্যাচটা মাস্ট উইনিং ম্যাচ ছিল স্টিভ রোডসের শিষ্যদের জন্য। কিন্তু ম্যাচ না হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হলো। তাই সেমিফাইনালের ওঠার রাস্তাটা আরো দুর্গম হয়ে গেল টাইগারদের। তবে লাভ হলো শ্রীলংকার। বৃষ্টির আশীর্বাদে মুফতে এক পয়েন্ট হাতিয়ে নিল তারা। এ নিয়ে দুটি ম্যাচেই বিনা পরিশ্রমে পয়েন্ট পেয়ে গেল দলটি।

বাংলাদেশ শ্রীলংকার ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ নিয়ে প্রবল আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও গতকাল মাঠে আসতে পারেননি অনেকেই। তাদের আশায় বাধ সেধেছে বৃষ্টি। তবুও কয়েকশ দর্শক ক্রিকেটের নেশায় কাল নেভিল রোডে এসেছেন। তবে তাদের সময় কেটেছে গ্যালারিতে খোশগল্প করেই। লন্ডন থেকে আসা মেহেদি ও তার ৫ বন্ধুর সাথে দেখা হয় গ্যালারিতে। সকালে তিন ঘন্টা গাড়ি চালিয়ে তারা এসেছেন খেলা দেখতে। তবে ম্যাচ মাঠে না গড়ানোয় হতাশ তারা। মেহেদি বলেন, ‘শ্রীলংকা ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। খেলা দেখার জন্য সবাই আগে থেকেই ছুটি নিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু বৃষ্টি বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্য বয়ে আনলো আর আমাদের ছুটিটাও বৃথা গেল।’

সকালে তারিফ ও রিয়াদ নামে দুই ক্ষুদে বাংলাদেশ সাপোর্টারের দেখা পাওয়া গেল স্টেডিয়ামের বাইরে। বৃষ্টির জন্য খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় বাবার হাত ধরে তাদেরকে আবার বাসায় ফিরে যেতে হচ্ছে। এজন্য তাদের খুব মন খারাপ। তবে এই প্রতিবেদক তাদের ছবি তুলতে গেলে তারা হাসিমুখেই ক্যামেরার সামনে পোজ দিয়েছে।