ভেতরে সবুজ ঘাষ। এর মধ্যে রয়েছে ফুটবল খেলার জন্য গোলপোস্ট, আবার ক্রিকেটের জন্য রয়েছে আলাদা পিচ। পাশেই রয়েছে হাঁটার জন্য ওয়াকওয়ে। যেখানে হাঁটার পাশাপাশি চালানো যাবে সাইকেল। শিশুদের জন্য রয়েছে আলাদা রাইড। এটি বনানীর দৃষ্টিনন্দন কামাল আতাতুর্ক পার্কের চিত্র। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন পার্কটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিকায়ন করে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছে সব বয়সি মানুষের জন্য। পার্কটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।
তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম রাষ্ট্রপতি মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের নাম অনুসারে এ পার্কের নামকরণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পার্কের মধ্যে নামফলকটি বসানো হয়েছে। পার্কটি ঘুরে দেখা যায়, এতে রয়েছে হাঁটার পথ, শৌচাগার, আলাদা বসার জায়গা, শিশু ও কিশোরদের আলাদা খেলাধুলার জায়গা ও সরঞ্জাম। পার্কটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন না হলেও সাধারণ মানুষকে পার্কটিতে সময় কাটাতে দেখা গেছে। উন্মুক্ত বসার স্হানে সব বয়সি মানুষ বসে আড্ডা দিচ্ছে। আবার কাউকে কাউকে পার্কের ওয়াকওয়েতে সাইকেল চালাতেও দেখা গেছে। ওয়াকওয়েতে সাইকেল নিয়ে এসেছেন শফিউর রহমান। তিনি বিকাল হলেই এখানে এখন সাইকেল নিয়ে আসেন। এমন সাইকেল চালানোর জায়গা পেয়ে খুশি তিনি। অন্যদিকে দুই বন্ধুকে উন্মুক্ত স্হানে গল্প করতে দেখা যায়। তারা জানান, এমন নিরিবিলি জায়গায় বসে থাকতেই ভালো লাগছে। শহরে এমন জায়গা আরো বেশি বেশি দরকার। এখানে একটা ভালো দিক হলো পাবলিক টয়লেটসহ সব ধরনের সুবিধা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে বাচ্চাদের জন্য খেলার সরঞ্জাম আছে দেখলাম। পূর্ণাঙ্গভাবে এটি চালু হলে বাচ্চাদের নিয়ে আসব বলেও তিনি জানান।
পার্কটিতে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ফুলের গাছও লাগানো হয়েছে। এছাড়া সার্বক্ষণিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে। পার্কের দেখাশুনার জন্য একজন গার্ডকে বসে থাকতে দেখা গেছে। তিনি জানান, বেশির ভাগ মানুষ এখানে এসে বেশ খুশি। সুন্দর পরিবেশ ও আধুনিক পার্কটি যে কারো মন কাড়বে। বিকালে মুখর হয়ে উঠে পার্কটি। আমার এখানে ডিউটি করতেও ভালো লাগে সবাইকে দেখে।
সিটি করপোরেশনের আওতাধীন উন্মুক্ত স্হানসমূহের আধুনিকায়ন ও সবুজায়ন প্রকল্পের আওতায় পার্কটির উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে। পার্কটির উন্নয়ন প্রকল্প শুরু হয় ২০১৭ সালে। পার্কের আধুনিকায়ন ও সবুজায়নে ৫ কোটি টাকার মতো ব্যয় হয়েছে। ডিএনসিসি মেয়র দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভাসুগলু, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে এম আব্দুল মোমেন ও ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম পার্কটি উদ্বোধন করবেন।
এ বিষয়ে উত্তর সিটির সহকারী প্রকৌশলী নুরুজ্জামান খান জানান, পার্কটির কাজ শেষ। এটি শ্িগগিরই উদ্বোধন করা হবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভাসুগলুর শিডিউল অনুযায়ী এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হবে। খেলার মাঠ ও পার্ক আধুনিকায়নের বিষয়ে উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘শিশু-কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ—সব বয়সের মানুষ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষসহ সবার সুবিধার কথা বিবেচনা করেই পার্ক ও মাঠগুলোর নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। মাঠে শিশুদের ও বড়দের জন্য আলাদা খেলার জায়গা রয়েছে। এছাড়া পার্কের ভেতরে তৈরি করা হয়েছে গণশৌচাগারও।