টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বংশাই ও লৌহজং নদীর দুই পাড়ে তীব্র ভাঙ্গন প্রতিরোধের জন্য চলছে জিও ব্যাগ ডাম্পিং। পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসন এবং এমপির সহযোগিতায় ভাঙ্গনকবলিত এলাকায় চলছে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম।
এর আগে ফতেপুর, ভাতগ্রাম ও লতিফপুর ইউনিয়নের ভাঙ্গনকবলিত বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য খান আহমেদ শুভ এমপি।
এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান, উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান, ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ, আওয়ামী লীগ নেতা মো. সিরাজ মিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুর রহমান আকন্দ, সাবেক চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিয়া, মো. জাকির হোসেন, এমপির ব্যক্তিগত একান্ত সচিব মীর আসিফ অনিক ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম শরিফসহ টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
এবিষয়ে সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ বলেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রী, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আর্থিক সহযোগিতায় মির্জাপুর উপজেলার বংশাই ও লৌহজং নদীর ভাঙ্গনকবলিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা দেওয়া হবে।’
বৃহস্পতিবার (১৮আগস্ট) তিন নম্বর ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ জানান, বংশাই নদী ভাঙ্গনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার বসত বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট বাজার, রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও ফসলি জমি।
চেয়ারম্যান বলেন, ‘ফতেপুর, থলপাড়া, আদাবাড়ি, বৈন্যাতলী, চাকলেশ্বর, ভাদগ্রাম ইউনিয়নের গোড়াইল, গাড়াইল, পৌরসভার ত্রিমোহন, পুস্টকামুরী উত্তরপাড়া, কুমারজানি, ফিরিঙ্গিপাড়া, গোড়াই ইউনিয়নের দেওহাটা, রশিদ দেওহাটা, কোদালিয়া, হাটুভাঙ্গা ও আজগানা ইউনিয়নে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। এ ছাড়া থলপাড়া ব্রিজ, ত্রিমোহন বীর মুক্তিযোদ্ধা একাব্বর হোসেন ব্রিজ, তোদালিয়া ব্রিজ ও হাটুভাঙ্গা ব্রিজ ঝুঁকির মুখে রয়েছে।’
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে পৌরসভার দুই নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আশরাফ আহমেদ, পুষ্টকামুরী গ্রামের সুজন মিয়া, খবির উদ্দিন, মোজাফ্ফর হোসেন, মিঠু, ফজল ও ফজলু জানান, দীর্ঘ দিন ধরে লৌহজং নদীর ভাঙ্গনে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন বহু পরিবার। পৌরসভার পুষ্টকামুরী, কান্ঠালিয়া ও আন্ধরা গ্রামে নদীভাঙ্গনে কয়েক শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। দিন দিন ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখনও কোনো সহযোগিতা পায়নি। বসত বাড়ি হারিয়ে তাদের কষ্টের শেষ নেই। আতঙ্কের মধ্যে দিন যাপন করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড টাঙ্গাইলের প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বংশাই ও লৌহজং নদীর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙ্গনের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় এমপি, উপজেলা প্রশাসন ও ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে সমন্বয় করে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে।’
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় এমপি মহোদয়ের উদ্যোগে নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু হয়েছে। বেশি বরাদ্দ দেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ এমপি মহোদয়কে অনুরোধ করা হয়েছে।’