কেরানীগঞ্জের ওসিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

ধর্ষণের অভিযোগ

 ইত্তেফাক রিপোর্ট

কেরানীগঞ্জ থানার ওসিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এক নারীকে অপহরণের পর ধর্ষণ করার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল বিকালে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬-এর বিচারক শহিদুল ইসলামের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন এক নারী। অভিযুক্তরা হলেন— কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাকের মোহাম্মদ জোবায়ের, ওসি অপারেশন গোলাম সরোয়ার, উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল আমিন বাশার, মোহাম্মদ ফারুক, হায়দার, মোহাম্মদ ইকবাল, মোহাম্মদ হানিফ মেম্বার, মোহাম্মদ রফিক ও মোহাম্মদ বাবুল মধু। এ ব্যাপারে বাদীর আইনজীবী মোহাম্মদ জাকির হোসেন হাওলাদার জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী ওই নারীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ জোবায়েরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে কেরানীগঞ্জের বালুচর এলাকায় স্যুয়ারেজ লাইন নিয়ে মারামারি হয়েছিল। ওই ঘটনায় স্থানীয় ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়। ফলে আমরা মামলা মোকদ্দমায় যাইনি। এর তিনদিন পর ওই মহিলা (মামলার বাদী) ৩/৪ জন মানবাধিকার কর্মী নিয়ে থানায় হাজির হয়ে বলেন, তার শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। আমরা তাকে অভিযোগ দেওয়ার কথা বলি। তিনি অভিযোগ দেওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন সাব-ইন্সপেক্টরকে পাঠাই। কিন্তু তদন্ত করে শ্লীলতাহানির মতো কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে আবার ওই মহিলা থানায় এসে জানান, বেলা ১২টার দিকে রিকশা করে যাওয়ার সময় তাকে ধর্ষণ করা হয়। ওসি আরো বলেন, বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে মামলা নিয়েছি। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। লোকমুখে শুনেছি আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে।

মাথা ন্যাড়া করেও শেষ রক্ষা

হলো না সেই ধর্ষকের

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ জানান, চট্টগ্রাম থেকে প্রেমিকাকে নারায়ণগঞ্জে ডেকে এনে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত আসামি রবিউল ইসলাম সানিকে (২৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সানি মুন্সিগঞ্জ ফুলতলা এলাকার নুরুল হক ব্যাপারীর ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর মডেল থানার ওসি মো. কামরুল ইসলাম জানান, মাথা ন্যাড়া করে কৌশলে পালাতে চেয়েছিল আসামি। গোপন সংবাদ ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা তার অবস্থান নিশ্চিত করে লিংক রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আরো জানান, আসামির ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা ও আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আগে গত সোমবার দুপুরে তিনজনের নাম উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করে ধর্ষণের শিকার তরুণী। তরুণীর অভিযোগ, ধর্ষণের পর এসআই সাইফুল ধর্ষককে গ্রেফতার না করে উল্টো তাকে শ্যামলী পরিবহনের একটি গাড়িতে তুলে দিতে চেয়েছিল। এছাড়া ধর্ষকের মা থানায় আসলেও তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন এসআই সাইফুল।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ৬ মাস আগে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে রবিউল ইসলাম সানির সাথে পরিচয় হয় ওই তরুণী। তখন থেকেই তাদের সম্পর্ক ছিল। ঈদের ছুটিতে গত ৭ জুন সানির দাওয়াতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে নারায়ণগঞ্জে আসে ওই তরুণী। পরে আরেকটি বাসে করে চট্টগ্রামে পাঠানোর চেষ্টা করলে তাদের বাগিবতণ্ডায় লোকজন জড়ো হলে সানি পালিয়ে যায়। মামলায় ওই ধর্ষণের পেছনে সানির মা ও এক ভাই জড়িত বলে দাবি করা হয়।