রাজধানীর উত্তরায় বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের গার্ডার পড়ে একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার ১০ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তাদের মধ্যে তিনজনের ৪ দিন এবং সাতজনের ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। শুক্রবার (১৯ আগস্ট) ঢাকার মহানগর হাকিম মাহবুব আহমেদ পুলিশের করা রিমান্ড এবং আসামিদের জামিন আবেদনের শুনানি করে এ আদেশ দেন।
আসামিদের মধ্যে ক্রেইন অপারেটর আল আমিন হোসেন হৃদয় (২৫), তার সহকারী রাকিব হোসেন (২৩) ও ঠিকাদার কোম্পানির সেইফটি ইঞ্জিনিয়ার জুলফিকার আলী শাহকে (৩৯) চার দিন করে মঞ্জুর করেন।
এছাড়া দুর্ঘটনাস্থলে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ফোর ব্রাদার্স গার্ড সার্ভিসের ট্রাফিক ম্যান মো. রুবেল (২৮), আফরোজ মিয়া (৫০), হেভি ইকুইপমেন্ট সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত ইফসকন বাংলাদেশ লিমিটেডের মালিক ইফতেখার হোসেন (৩৯), হেড অব অপারেশনস আজহারুল ইসলাম মিঠু (৪৫); ক্রেন সরবরাহকারী বিল্ড ট্রেড কোম্পানির মার্কেটিং ম্যানেজার তোফাজ্জল হোসেন তুষার (৪২), প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুহুল আমিন মৃধা (৩৩) ও মঞ্জুরুল ইসলামকে (২৯) দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
গত ১৫ অগাস্ট বিকালে রাজধানীর উত্তরায় প্রাইভেটকারের ওপর নির্মাণাধীন বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ক্রংক্রিটের বক্স গার্ডার পড়ে একই পরিবারের পাঁচজন নিহত ও দুইজন আহত হন। ওই গাড়িতে থাকা নবদম্পতি হৃদয় (২৬) ও রিয়া মনিকে (২১) টেনে বের করে স্থানীয়রা দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের আরও পাঁচজন গাড়ির ভেতর আটকে থাকেন তিন ঘণ্টা। পরে সন্ধ্যায় গার্ডার সরিয়ে হৃদয়ের বাবা রুবেল মিয়া (৬০), রিয়ার মা ফাহিমা (৪০), খালা ঝর্না (২৮) এবং ঝর্নার দুই সন্তান জান্নাত (৬) ও জাকারিয়ার (২) লাশ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার রাতেই নিহত ফাহিমা আক্তার ও ঝরণা আক্তারের ভাই আফরান মণ্ডল বাবু বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন। পরে বুধবার রাতে ঢাকা, গাজীপুর, সিরাজগঞ্জ ও বাগেরহাট থেকে ১০ জনকে গ্রেফতার করে র্যাব।