দেশের জ্বালানি সংকটের জন্য সরকারের নানা বিভাগ দায়ী। সময়মতো এবং চাহিদামতো পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলে এই সংকট এখন গোটা জাতির ওপর চেপে বসেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠিতে এ খাত নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর অবহেলা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জ্বালানি তেল আমদানিতে ঋণপত্র খোলার জটিলতার বিষয়টি প্রথমে জানায় বাংলাদেশ ব্যাংককে। অভ্যন্তরীণ বাজারে মার্কিন ডলারের ঘাটতির কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এলসি খুলছে না বলে চিঠিতে উল্লেখ করে বিপিসি। এরপর চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে একই বিষয় উল্লেখ করে বিপিসি বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে একাধিক চিঠি দেয়। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এরপর বিপিসির পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে অর্থসংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে চিঠি দেওয়া হয়। মূলত এরপরই সংকট নিয়ে সরকারের শীর্ষমহল নড়েচড়ে বসে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সর্বশেষ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় যে চিঠি লিখেছে, তাতে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের চাহিদার শতভাগ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। তেল আমদানির ক্ষেত্রে বিপিসিকে প্রতি মাসে গড়ে ১৬ থেকে ১৭টি ঋণপত্র বা এলসি খুলতে হয়। এসব এলসি সাধারণত সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক এবং ইস্টার্ন ব্যাংকে খোলা হয়ে থাকে। সাম্প্রতিককালে অভ্যন্তরীণ বাজারে ডলারের ঘাটতি রয়েছে জানিয়ে ব্যাংকগুলো বিপিসির চাহিদা অনুযায়ী এলসি খুলতে অপারগতা প্রকাশ করছে।
চিঠিতে আরো বলা হয়, ব্যাংকগুলো এলসি খুললেও মূল্য পরিশোধে দেরি করছে কিংবা কিস্তিতে মূল্য পরিশোধ করছে। এর ফলে জ্বালানি তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অবনতিসহ জ্বালানি তেল আমদানি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। চিঠিতে আরো বলা হয়, বিশ্বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ক্রমাগত বেড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় ডলারের সংস্থানসহ চাহিদা অনুযায়ী এলসি খোলা না হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার সরকারের উচ্চমহল থেকে জ্বালানি তেলের বিষয়ে নানা ঘোষণা আসে।