নিয়ম করে প্রতি বছরই ভর্তি পরীক্ষার সিস্টেমের বলি হচ্ছে হাজারো সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী, ভর্তি পরীক্ষার ব্যর্থতা মেনে নিতে না পেরে অনেকেই অল্প বয়সে হারিয়ে ফেলছে জীবনের উইকেট। তাদের এই ব্যর্থতা, অজ্ঞতার দায় কেবলই তাদের পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নয়, দায় রয়েছে রাষ্ট্রেরও। শিক্ষাব্যবস্থার অসম প্রক্রিয়া, বাস্তবিক শিক্ষার অভাব, মুখস্থবিদ্যার অন্ধ প্রতিযোগিতার আড়ালে এভাবেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে হাজারো শিক্ষার্থীর জীবন।
বহুনির্বচনি প্রশ্নের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন করা যায় না। ৬০ মিনিটের ছোট্ট পরীক্ষাতেই বোঝা যায় না একজন শিক্ষার্থীর উপস্থাপন কিংবা মস্তিষ্কের প্রতিটি কোষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা জ্ঞানের পরিধি, জানার গভীরতা। মেধার মূল্যায়ন অবশ্যই সামগ্রিক হওয়া উচিত। যেখানে বহুনির্বচনি প্রশ্নের পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে যথাক্রমে প্রাথমিক জ্ঞান ও বিশ্লেষণদক্ষতা যাচাই করা যাবে। যেখানে উঠে আসবে একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষার প্রকৃত অবস্থা। অনতিবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার নামের মুখস্হবিদ্যার এই লটারি বন্ধ করে প্রকৃত মেধাবীদের খুঁজে বের করার সময়োপযোগী পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে হবে। সিফটভিত্তিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করতে হবে সিফট ভিত্তিতেই। বহুনির্বচনির পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করতে হবে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের পরিধি। অনুষদভিত্তিক বিষয়ের জন্য নিতে হবে ঐ নির্দিষ্ট বিষয়-সম্পর্কিত বিষয়ের ওপর পরীক্ষা।
ভর্তির পরীক্ষার নামে মুখস্থবিদ্যার এই লটারিতে হেরে যাওয়াই জীবনের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ না পেলে কারো জীবন থেমে থাকে না, থেমে থাকে না আশপাশের প্রকৃতি-প্রিয়জনও। নিজের সন্তানকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে প্রস্তুত করুন, ন্যায়নীতির শিক্ষা দিন। বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সন্তানের প্রকৃত মানুষ হওয়ার নীতি-নৈতিকতাই সাফল্যের পথে তাকে এগিয়ে দেবে। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, কর্মনিষ্ঠা আর স্বীয় মানবিকতাই তাকে পৌঁছে দেবে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে। তখন আর কেউ তাকে আটকে রাখতে পারবে না। এক পৃথিবী ব্যর্থতা পেছনে ফেলে সে মাথা তুলে দাঁড়াবে সূর্যের মতো, এগিয়ে যাবে আলোর গতিতে।
লেখক :শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়