পাঁচবিবিতে ভেড়া পালনে ভাগ্য বদল রেহেনার

হতদরিদ্র শ্বশুর-শাশুড়ির সংসারে বোঝা হয়ে পড়েন রেহেনা। স্বামীসহ দুই সন্তানকে নিয়ে কি করবেন এই চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। এরই মধ্যে শ্বশুর-শাশুড়ি তাদের সংসার থেকে আলাদা করে দেন। সামনের দিনগুলো অন্ধকার দেখতে পান তিনি। তবুও হাল ছেড়ে দেননি রেহেনা। শাশুড়ির দেওয়া দুটি ভেড়া থেকে আজ তিনি এলাকার রোল মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। আত্মবিশ্বাসই তাকে অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের হরেন্দা গ্রামের ভ্যান চালক আব্দুর রহিমের স্ত্রী রেহেনা বেগমের সাথে কথা হয় ইত্তেফাক প্রতিনিধির। তার অতীত জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন রেহেনা। বাবা-মার সংসারে অভাব অনটনের কারণে পড়াশুনা করতে পারেননি, ঠিকমত খাবারো জোটেনি তাদের। অল্প বয়সে রেহেনার বিয়ে দেন তার বাবা-মা। স্বামীর সংসারে এসে রেহেনা দেখতে পান ৫শতক জমির উপরে জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরেই ভ্যানচালক স্বামীসহ শ্বশুড়-শাশুড়ির পরিবার। স্বামীর সামান্য আয়ে বহুকষ্টে চলে তাদের সংসার। ফলে বাধ্য হয়ে পাশের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ নেন তিনি। বিয়ের তিন বছরের মধ্যে রেহেনার কোলে আসে রাশেদ ও আশিক। খরচ বেড়ে যাওয়ায় শ্বশুড়-শাশুড়ি তাদের আলাদা করে দেন। বহু কষ্টে তাদের সংসার চলতে থাকে। ছেলেদের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে তাদের হিমশিম খেতে হয়। শাশুড়ি পুত্রবধূ রেহেনাকে ভবিষ্যতের সঞ্চয়ের জন্য দুটি ভেড়ার বাচ্চা দেন। শিশু দুই সন্তানের সাথে ভেড়ার বাচ্চাটিকেও লালন পালন করতে থাকেন রেহেনা। প্রথমে দুটি বাচ্চা দেয় একটি ভেড়া। বছরে ভেড়া তিনবার বাচ্চা দেওয়ায় স্বল্প সময়ে তার খামারে সংখ্যা বাড়তে থাকে।  

রেহেনা জানান, এপর্যন্ত তার খামার থেকে প্রায় এক’শ ভেড়া বিক্রি করেছেন। এখন ছোটবড় অর্ধশতাধিক ভেড়া রয়েছে তার খামারে। রেহেনার বড় ছেলে রাসেদ চার্টার একাউন্টেডেন্ট নিয়ে ঢাকায় আর ছোট ছেলে আশিক স্থানীয় হাকিমপুর কৈজুড়ী বিএনআর উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। রেহেনার মতে কষ্ট করলে একদিন তার ফল পাওয়া যায়। তিনি বলেন, দেশের গ্রামের মেয়েরা আমার মত যদি স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য ধৈর্য নিয়ে পরিশ্রম করে তাহলে কারো অভাবী সংসার থাকবে না। সরকারী ভাবে সাহায্য সহযোগিতা পেলে ভেড়া পালনে উৎসাহ আরও বেড়ে যাবে। 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিয়াজ কাযমির বলেন, হরেন্দা গ্রামের রেহেনা বেগমের ভেড়া পালনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার খবরে আমরা তার খোঁজ খবর নিয়েছি। নিঃসন্দেহে এটি একটি ভাল উদ্যোগ। অনেকে তাকে দেখে অনুসরণ করবে। ইতিমধ্যে রেহেনার সাফল্যের বিষয়ে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আশা করছি অচিরেই সরকারীভাবে সাহায্য আসবে। আসলে আমরা তার কাছে পৌঁছে দেবো।