বিশেষ উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হলো চীনের গুপ্তচর জাহাজ

হঠাৎ পানিপথে শ্রীলঙ্কার দিকে রওয়না দিয়েছিলো চীনের গুপ্তচর জাহাজ (যেটাকে ওরা রিসার্চ ভেসল বলে থাকে) উয়ান ওয়াং ৫। হঠাৎ হলেও বিশেষ উদ্দেশ্য হাশিলে পরিকল্পনা দীর্ঘ সময়ের। তবে বিশেষ উদ্দেশ্য পূরণের পথে জয়ের বদলে পেলো তারা বড় ব্যর্থতা। কিন্তু কেনো?

জানা যায়, ভারতের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও, ১৭ই আগস্ট, দেউলিয়া শ্রীলঙ্কা চীনের গুপ্তচর জাহাজ (যেটাকে ওরা রিসার্চ ভেসল বলে থাকে), Yuan Wang 5 কে নিজের হাম্বানতোতা বন্দরে প্রবেশ করতে দিয়েছে। 

চীনের এই জাহাজটিতে রয়েছে  অত্যন্ত সফিস্টিকেটেড রাডার সিস্টেম। যা চারপাশের ৭৫০কিলোমিটার রেডিয়াসের মধ্যে যে কোন মিলিটারি বেস বা ইনস্টলেশনের এর সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। 

চীনের এই গুপ্তচর জাহাজটি একটি মহা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে রওয়না দিয়েছিলো শ্রীলঙ্কার পথে। আর সেই উদ্দেশ্য হলো- ভারতের দক্ষিণে রত  ভারতের যত মিসাইল বেস, শ্রীহরিকোটা, ভাইজাগ-এর ইন্ডিয়ান নেভীর হেডকোয়ার্টার, ওড়িশার চাঁদিপুরসহ ভারতের অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানের গোপনীয় সব তথ্য সংগ্রহ করা।

জানার জন্য বলে রাখা ভালো যে, শ্রীলঙ্কার হাম্বানতোতা বন্দর থেকে ৭৫০ কিলোমিটারের মধ্যেই ছিলো ভারতের এই সব গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

জানা যায়, অতিরিক্ত ঋণে ভারে ভেঙ্গে পড়েছে শ্রীলঙ্কা।এমনই এক চীনা ঋণের কারণে শ্রীলঙ্কার হাম্বানতোতা বন্দরটি হাতছাড়া হয়েছে শ্রীলঙ্কার কাছ থেকে। কারণ হাম্বানতোতা পোর্টটির জন্য শ্রীলঙ্কা যে ঋণ নিয়েছিল চীনের কাছ থেকে তা পরিশোধ করতে না পারার জন্য বন্দরটি চীনের কাছে ৯৯ বছরের লিজে রয়েছে। বলতে গেলে বন্দরটি এখন চীনেরই। তাই ভারতের আপত্তি থাকা স্বত্বেও চীনের কথা শুনতে হয়েছে।

যার ফলে ভারতের আপত্তি থারা সত্বেও তেমন কিছুই করবার ছিলোনা শ্রীলঙ্কার।

এরপর নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ সব সম্পদ ও তথ্য বাঁচাতে উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, এ থেকে বাঁচতে ভারত কি করল?

এ প্রসঙ্গে জানা যায়, চীনের জাহাজটি ডক করার আগেই ভারতের দুটি মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স GSAT 7/ 7A স্যাটেলাইট (রুক্মিণী আর অ্যাংরি বার্ড),  RI SAT  এবং ভারতের স্পাই স্যাটেলাইট EMISAT শ্রীলঙ্কার ওই বন্দরের ওপর বা আশেপাশে পজিশন নেয়। তারপর এই জাহাজগুলো একটি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক মেশ ব্লক (অনেকটা তড়িৎ চুম্বকীয় জাল দিয়ে ঢেকে ফেলা) করে ফেলে পুরো জায়গাটিকে। যার  ফলে চীনের জাহাজটি কোন মাইক্রোওয়েভ সিগনাল পাঠিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়নি।এটিকে এক ধরনের জ্যামিংও বলা হয়ে থাকে।

আরও জানা যায়, এ সময় বরং ভারতই উল্টো তাদের EMISAT দিয়ে  চীনের জাহাজের যতগুলো ট্রান্সপন্ডার ছিল সবার সাথে হ্যান্ডশেক করে ওদের সিস্টেমে ঢুকে পরে, জাঙ্ক ডেটা ভরে দেয়। এতে চীনের অনেক গোপন অ্যালগরিদম ভারতের হাতে চলে আসে। আর এই কাজটি করতে সবচাইতে বেশি সাহায্য করেছে "কৌটিল্য" নামে ভারতীয় একটি ইলেকট্রনিক স্পাইং সিস্টেম যেটি ভারত ২০১৯ সালেই স্পেসে পাঠিয়ে রেখেছিল।

যদিও ব্যাপারটি অত সহজ নয়। কয়েক শত ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী আর মিলিটারি এক্সপার্ট এই প্রজেক্টটি সফল করেছে। 

এর ফলে চীনের এই রিসার্চ শিপ যে ধরণের রির্সাচ করতে বা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিলো, তা তো পূরণ হয়নি বরং নিজেদের সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভারতের গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দেয়। অতঃপর এটি সোমবার (২২ আগস্ট ) নিজ দেশে চীনে ফিরে যাচ্ছে।