পিওয়াইপি এক্সিবিশন: শিশুদের মেধা, মনন আর সৃষ্টিশীলতার এক চমৎকার উপস্থাপনা

‘যখন আপনি কোনো বিষয়ে প্রচণ্ড আগ্রহী হন বা কোনোকিছুর প্রতি আপনার প্রবল অনুরাগ থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই সে ব্যাপারে আপনি বেশি জানতে ও শিখতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। আর এই অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা আপনার পরবর্তী জীবনেও কাজে লাগে। আমার আগ্রহের জায়গা জ্যোতির্বিদ্যা। কারণ এর ভেতর লুকিয়ে আছে নিগূঢ় রহস্য আর অনেক রকম চ্যালেঞ্জ। যেমন, মহাকাশে দূষণ বেশ গুরুতর একটি সমস্যা। এর ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মহাকাশ অভিযান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই, এই সমস্যা মোকাবিলায় উদ্ভাবনী ডিভাইস ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আসার লক্ষ্যে আমি কাজ শুরু করি। আমার এই যাত্রায় আমি স্বাধীন ও পরিবেশের প্রতি আরও যত্নশীল হতে শিখেছি’, নিজের কাজ নিয়ে এমন অভিমত প্রকাশ করে দশ বছর বয়সী কেয়ান।

দশ বছরের আরেক শিশু আবদুল্লাহ বলে, ‘অতিরিক্ত মাছ শিকার পৃথিবীর জন্য বেশ বড় এক হুমকি। এর ফলে অনেক মাছের প্রজাতি বিলুপ্তির পথে এগোচ্ছে। আমার আগ্রহের জায়গা এই মাছ শিকারকে ঘিরে। তাই, আমি আমার চারপাশের সবাইকে জানাতে ও সচেতন করতে শুরু করেছি যে, অতিরিক্ত মাছ ধরলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। তাই মানুষকে অবশ্যই অতিরিক্ত মাছ ধরার নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে জানতে হবে, যাতে পৃথিবীটাকে সকল জীবের জন্য বসবাসের উপযোগী করা যায়।’ 

সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা (আইএসডি) আয়োজিত পিওয়াইপি এক্সিবিশন ২০২২-এ, গ্রেড ৫-এর ৩২ জন শিক্ষার্থী তাদের আগ্রহের বিষয়কে ঘিরে বিভিন্ন সমস্যা ও সেগুলোর সমাধান তুলে ধরে। তাদের গল্পগুলোর মূল আইডিয়া ছিল-‘আমরা আমাদের সৃজনশীলতা ও প্রবল আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে তুলব’। পশুপাখির প্রতি নিষ্ঠুরতা, তীব্র গেম আসক্তি ও খাদ্য অপচয় থেকে শুরু করে মহাকাশ দূষণ, অতিরিক্ত মাছ শিকার সহ আরও বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য বিষয়কে শিক্ষার্থীরা তাদের আগ্রহ ও গবেষণার জায়গা হিসেবে বেছে নেয়। তারা দুই সপ্তাহ যাবৎ বাছাইকৃত বিষয় নিয়ে গবেষণা করে এবং সেই বিষয় সংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবে এমন সম্ভাব্য উপায় বের করে।পিওয়াইপি এক্সিবিশনকে মূলত আইএসডি’র প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রাইমারি ইয়ারস প্রোগ্রামের চূড়ান্ত কাজ বলে বিবেচনা করা হয়। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের সময় যা শিখেছে ও যে জ্ঞান আহরণ করেছে তার প্রতিফলন ঘটে এই এক্সিবিশনে।

pyp2

পিওয়াইপি এক্সিবিশনের (পিওয়াইপিএক্স নামেও পরিচিত) মূল লক্ষ্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সহযোগিতামূলক কাজের সাথে যুক্ত করা, বিভিন্ন বিষয়ে গভীর অনুসন্ধানে আগ্রহী করে তোলা এবং নিজস্বতা ও দায়িত্ববোধ প্রদর্শনে সক্ষম করা। সৃষ্টিশীলতা ও অর্জিত জ্ঞান উপস্থাপনের এই আয়োজন সকল শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্কুল কমিউনিটিকে একত্রিত করে। শিক্ষার্থীরা আগের বছরগুলোতে যা শিখেছে সেই জ্ঞানকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে বলে এর মাধ্যমে তাদের গভীরভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা ও গবেষণা দক্ষতার বিকাশ ঘটে। সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ গ্রহণের এমন চিন্তাধারা শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকতে সাহায্য করে। আইবি পাঠ্যক্রমের আওতাভুক্ত এই পিওয়াইপিএক্স, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জন ও প্রারম্ভিক বিকাশের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।