টানা ১৪ বছর প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ তথা পেশাদার লিগ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী। আগামী লিগে সালামকে চেয়ারম্যান পদে নাও দেখা যেতে পারে। সালামকে সরিয়ে নতুন চেয়ারম্যান আসছে এই পদে। এরই মধ্যে বাফুফের আরো দুই সহসভাপতিকে লিগ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা দুই জনই সাড়া দেননি। কাউকে না পাওয়া গেলে বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন নিজেই দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন বলে বাফুফেতে জোর গুঞ্জন।
বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনকে ফোনে এ বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমি পরে কথা বলব।’ সভাপতির এমন কথায় সহজেই অনুমেয় কিছু একটা হতে যাচ্ছে। লিগ কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মুর্শেদীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সরাসরি কোনো কিছু বলেননি। তিনি বলেছেন, ‘আমাকে সরিয়ে দেওয়ার আগে আমি নিজেই পদত্যাগ করব। আমি সেই ছেলে নই যে, আমাকে সরিয়ে দেওয়ার পর আমি যাব। আমি নিজেই সরে যাব।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমি দুই-এক দিনের মধ্যে সংবাদমাধ্যমকে জানাব। শনিবার বাফুফেতে একটি মিটিং রয়েছে। তার পরই সংবাদ সম্মেলন হবে। সেখানে কথা হবে বলেই ফোন কেটে দিলেন সালাম। আবারও তাকে ফোন করা হলে সাড়া দেননি তিনি।
ততক্ষণে বাফুফের সভাপতি, সিনিয়র সভাপতি এবং বাফুফের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে কথা চালাচালি চলছিল। কেউ ফোন ধরতে রাজি না। প্রশ্ন উঠছে সালামকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি। বাফুফের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, সালাম স্যার অনেক কাজের ভারে নুয়ে পড়েছেন। তার ঘাড়ে কাজের ভার বেশি। একটু হালকা করার আলোচনা চলছে।
সালামের বিপক্ষে যারা আছেন তাদের কথা হচ্ছে লিগ আয়োজনে নানা বিতর্ক শুনতে শুনতে বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন বিরক্ত। নিয়মিত লিগ আয়োজন করলেও সালাম এই লিগটাকে মর্যাদাপূর্ণ আসরে নিয়ে যেতে পারেননি। খারাপ মাঠ, ফিকশ্চারে অনিয়ম, রেফারিং নিয়ে ক্লাবগুলোর অভিযোগ লেগেই আছে। একাধিক ক্লাব লিগ থেকে সরে যাওয়ারও প্রস্তুতি নিয়েছিল।
বসুন্ধরা কিংসের চেয়ারম্যান ইমরুল হাসানকে লিগ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছিল, তিনি রাজি হননি। কারণ একাধিক ক্লাবের সঙ্গে তারা জড়িত। গতকাল ইমরুল হাসান এ প্রশ্ন এড়িয়ে বলেন, ‘অফার দেওয়া হয়েছে বলব না, আবার অফার দেওয়া হয়নি সেটিও বলব না।’
আরেক সহসভাপতি আতাউর রহমান মানিককেও লিগ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছিল। তিনিও নাকি রাজি না। বিষয়টি জানতে মানিকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাড়া পাওয়া যায়নি।
বাফুফেতে সালাম একাধারে সিনিয়র সহসভাপতি, পেশাদার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান, রেফারিজ কমিটির চেয়ারম্যান এবং অর্থ কিমিটির চেয়ারম্যান। সেই সঙ্গে তিনি খুলনা-৪ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সংসদ সদস্য, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সদস্য। আর বাফুফেতে যে কয়টি পদে রয়েছেন তার সবকয়টি পদই গুরুত্বপূর্ণ।
সালাম মুর্শেদী বাফুফের নির্বাচিত সিনিয়র সহসভাপতি। ২০০৮ সাল থেকে তিনি বারবার এই পদে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। ২০২০ সালের ৩ অক্টোবর বাফুফের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে সালাম মুর্শেদীকে হারানোর জন্য তার প্রতিপক্ষ হয়েছিলেন দেশের আরেক সাবেক তারকা স্ট্রাইকার শেখ মো. আসলাম। কিন্তু তিনিও হারাতে পারেননি সালামকে।