ছোট্ট মাটির পাত্রে পূর্ণ গাছের আদলে বট, ফাইকাস, জেড, চাইনিজ এলম, পডোকার্পাস, জেলকোভা এমন যে গাছগুলো সহজে বেঁচে থাকতে পারে তাদের ছোট আকারে সুন্দর করে বাঁচিয়ে রেখে যে শিল্প গড়ে উঠেছে তার নাম বনসাই। দ্রুত নগরায়ণের এই সময়ে গাছের সৌন্দর্য আর অক্সিজেনের ঘাটতি মেটাতে আর বহু প্রাচীন এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে বাড়িতে বাড়িতে বনসাইয়ের চর্চা করা জরুরি বলে মনে করেন বনসাই বোদ্ধারা। তারা বলেন, বনসাই প্রকৃতির অংশ দিয়ে তৈরি অপরূপ সৌন্দর্য হতে পারে শৌখিন শোপিস।
বৃহস্পতিবার ধানমন্ডির ডাব্লিউ.ভি.এ. মিলনায়তনে ২২তম বার্ষিক বনসাই প্রদর্শনী উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তারা। প্রদর্শনীর আয়োজন করে বাংলাদেশ বনসাই সোসাইটি। এবারের প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য সজীব-সতেজ বনসাই শহরের মানুষের কাছে তুলে ধরা। প্রধান অতিথি হিসেবে চার দিনব্যাপী প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন চিত্রশিল্পী ও চারুকলা অনুষদের প্রাক্তন ডিন অধ্যাপক রফিকুন নবী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আর্কিটেক্টস ইনস্টিটিউটের সভাপতি স্হপতি মোবাশ্বের হোসেন। সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির সভাপতি নাজমা শফিক। অনুষ্ঠানে বনসাই শিল্পকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখার জন্য এমি ইসলাম সম্মাননা দেওয়া হয় সাইদা এ জহিদকে।
রফিকুন নবী বলেন, আমাদের দেশে শিল্পকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। বনসাই শিল্পীরা নিজেদের ভালোবাসা থেকে সময়, পরিশ্রম আর নিষ্ঠা দিয়ে বনসাই করে চলেছেন। প্রাচীন এই শিল্পকে ধরে রেখেছেন। শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সহযোগিতা করতে হবে। মোবাশ্বের হোসেন বলেন, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে গাছ কাটা হচ্ছে। চলছে মাঠ ভরাট । সবুজ কমে যাচ্ছে। শহরে ক্রমেই বাড়ছে অক্সিজেন ঘাটতি। তাই পরিবেশ সুরক্ষায় বাড়িগুলো বনসাই দিয়ে সাজাতে হবে। তিনি বনসাইয়ের দাম হাতের নাগলে রাখা ও বনসাই চর্চার ওপর গুরুত্ব দেন।
আয়োজকরা জানান, প্রদর্শনীতে দেশীয় বৈচিঁ, ঘূর্ণি, তমাল, শ্যাওড়া, তুঁত, নিশিন্দা গাছের পাশাপাশি অতিপরিচিত তেঁতুল, বট, পাকুর, হিজল, কামিনীসহ প্রায় ৩০০ বনসাই স্হান পেয়েছে। ৭০ জন বনসাই শিল্পীর শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে স্হান পেয়েছে। প্রদর্শনী চলবে ২৮ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সকলের জন্য প্রদর্শনী খোলা থাকবে।