এভারেস্টজয়ী নিশাত মজুমদারের এবার জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মানাসলু অভিযানে যাচ্ছেন। হিমালয়ে অবস্থিত মানাসলু পৃথিবীর অষ্টম উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ। শনিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে পর্বতারোহী সংগঠন ‘অভিযাত্রী’ আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তার হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
‘ওরিয়ন ট্রেক উইথ নিশাত’ শীর্ষক সাংবাদিক সম্মেলনে মানাসলু শৃঙ্গ অভিযানের বিস্তারিত জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যান্টার্কটিকাফেরত অভিযাত্রী এবং প্রকৃতিবিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক। আরো বক্তব্য রাখেন ইউসেপ বাংলাদেশের চেয়ারপারসন পারভীন মাহমুদ এবং মানাসলু অভিযানের আর্থিক পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন গ্রুপের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আশফাকুল আলম।
আগামী সোমবার মানাসলু জয়ের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে নেপালের পথে যাত্রা শুরু করবেন নিশাত মজুমদার। এবারের অভিযানে তাঁর সঙ্গে একজন নবীন নারী পর্বতারোহী থাকবেন। প্রজ্ঞা পারমিতা রায় নামের এই পর্বতারোহী ঢাকা মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। নিশাত মজুমদার ২০১২ সালে ৮ হাজার ৮৪৮ মিটারের বেশি উচ্চতার বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট জয় করেন।
সংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, ৮ হাজার মিটারেরও অধিক উচ্চতার হিমালয়ে ১৪টি পর্বতের একটি হচ্ছে মানাসলু। এ পর্বতের উচ্চতা ৮ হাজার ১৬৩ মিটার। ১৯৫৬ সালের ৯ মে একটি জাপানি দল প্রথমবার মানাসলুতে সফলভাবে আরোহণ করে। এর পর একের পর এক অভিযান হয় এই শৃঙ্গে। ২৯ আগস্ট নিশাত মজুমদার ও প্রজ্ঞা পারমিতা রায় ঢাকা থেকে যাত্রা করবেন। এর মধ্যে প্রজ্ঞা পারমিতা ১৫ দিন পর বেসক্যাম্পে থেকে ফিরে আসবেন। আর মানাসলু জয়ের লক্ষ্যে সেখানে ৪৫ দিন অবস্থান করবেন নিশাত মজুমদার। ৯ অক্টোবর তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। আবেদনের ভিত্তিতে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর নয়জন মেয়ের শারীরিক-মানসিক সক্ষমতা পরীক্ষার জন্য সিলেটের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় কালাপাহাড়ে নেওয়া হয়। সেখান থেকে একজনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়।
দীপু মনি বলেন, নিশাত মজুমদার শুধু এভারেস্ট জয়ে নয়, অন্য ক্ষেত্রেও নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার এক নাম। নারীদের মনের মধ্যে অনেক পাহাড় জমে থাকে। তাঁরা ভাবেন যে এ পাহাড় হয়তো জয় করতে পারবেন না। কারণ,পথে অনেক বাধা থাকে।
নিশাত মজুমদার বলেন, এভারেস্টে যাওয়ার আগে যোগ্যতা অর্জনের জন্য তিনি ২০১১ সালে মানাসলু গিয়েছিলেন। সেবার ক্যাম্প-৩ থেকে ফেরত আসেন। তখন থেকেই কখনো না কখনো মানাসলু জয়ের স্বপ্ন দেখেছেন।
ইনাম আল হক সভাপতির ভাষণে বলেন, মানাসলু এভারেস্টের সমকক্ষ একটি পর্বত। নিশাত এ পর্বতশৃঙ্গও জয় করবেন, সে প্রত্যাশা রয়েছে। তবে এবার এ অভিযানের বড় একটি বিষয় হচ্ছে, নিশাত মজুমদারের সঙ্গে একজন নবীন পর্বতারোহীকে নির্বাচিত করা হয়েছে। পর্বতারোহণে আগ্রহী সন্তানদের এখন মা-বাবাও সহায়তা করছেন। এ এক নতুন বাংলাদেশ।
পরীক্ষার জন্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি প্রজ্ঞা পারমিতা রায়। তিনি ভিডিও বার্তায় তাঁকে নির্বাচিত করার কারণে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর মা সোমা শীল।
নবীন পর্বতারোহী নির্বাচনের যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় কমিউনিটি পার্টনার ছিল নারীদের ভ্রমণ সংগঠন ‘ট্রাভেলস অব বাংলাদেশ-ভ্রমণকন্যা’।